শিরোনাম :
ব্রিটিশ আমলের কুলাউড়া জংশনের স্থাপনা ধ্বংসের মুখে বটিয়াঘাটায় বিভিন্ন ফার্মেসিতে মোবাইল কোর্ট, ২০ হাজার টাকা জরিমানা বটিয়াঘাটা উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের অর্ধ-বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরের বোয়ালমারীর খরসূতী সরকারী কলেজ থেকে খরসূতী ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি ফরিদপুরের সহস্রাইল বাজারে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় যাত্রীবাহী বাস সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু অজ্ঞাত পরিচয়ের মৌলভীবাজারে একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার রংপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলে ‎‘ভারত যদি বন্ধু হও, হাসিনাকে ফেরত দাও’ রূপসায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরির কারিগররা রংপুরে প্রধান শিক্ষিকার অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

ব্রিটিশ আমলের কুলাউড়া জংশনের স্থাপনা ধ্বংসের মুখে

Reporter Name
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

ঐতিহাসিক রেলওয়ের স্থাপনা দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের পুরোনো স্থাপনাগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ভবনের ভারী ইটের গাঁথুনি, দরজা-জানালা, লোহা ও ইস্পাতের অ্যাঙ্গেল খসে পড়ছে এবং পাকা প্ল্যাটফর্ম ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, যা যেকোনো সময় বড়কোন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। তবে এই ঐতিহাসিক জংশনটি সংস্কারের উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।রেল সূত্রের বরাতে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৮ সালের মধ্যে কুলাউড়া হয়ে আখাউড়া-বদরপুর সেকশন চালু হয়। ১৯১২ সালের ১৬ এপ্রিল কুলাউড়া থেকে কুশিয়ারী ঘাট পর্যন্ত ব্রাঞ্চলাইন চালুর মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ জংশনের মর্যাদা পায় এবং পরবর্তীতে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে কুলাউড়া-সিলেট লাইন চালু হয়। কুলাউড়া স্টেশনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঐতিহাসিক ‘লাতু ট্রেন’, যা কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করত। একসময় এই জংশনের মাধ্যমে ভারতের মহীশাসন, করিমগঞ্জ ও আসামের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল, যার মাধ্যমে চা, পাট ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ শত শত যাত্রী যাতায়াত করতেন। সে সময় জংশন স্টেশনে ছিল আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর রিফ্রেশমেন্ট রুম, পানশালা এবং হিন্দু ও মুসলিম হোটেল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে এই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০০৫ সালে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে ঐতিহাসিক এসব স্থাপনা ধ্বংসের দিকে এগোতে থাকে।

জংশন স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকা জয়পাশার বাসিন্দা ও কুলাউড়া শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সম্পাদক প্রভাষক সিপার উদ্দিন আহমদ বলেন, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন বৃহত্তর সিলেটের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং অবহেলা-অযত্নে এটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার রুমান আহমদ জানান, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্থাপত্যশৈলীর স্থাপনা সংরক্ষণের উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আপত্তির কারণে তা ভাঙা হয়নি।সিলেট সেকশনের সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের স্থাপনাগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে এবং হেরিটেজ রক্ষায় স্থানীয় সচেতন মহল এগিয়ে এলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category