শিরোনাম :
‎বিরলে কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে আটক-১ কালুপাড়ায় ১৫ টাকা কেজিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হচ্ছে:‎স্বস্তিতে নিম্নআয়ের মানুষ  হাজীগঞ্জে ইমাম রাব্বানী দরবার শরীফ থেকে শামীম রেজাকে আজীবন বহিষ্কার দৈনিক ইবি নিউজের সহকারী বার্তা সম্পাদক কলি আক্তার আহত ডাঃ হাঃ রোডের কোলঘেঁষে মাদ্রাসা ঠেস বাসস্টপের নলেজ সিটিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষক দিবস উদযাপন বটিয়াঘাটায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্য উদযাপিত হয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ‎তারাগঞ্জে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত  ‎নাগেরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা পালিত  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রূপসায় পদ্ম বিলের খালে মাছ অবমুক্ত মোরেলগঞ্জে জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনুষ্ঠিত
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

মামলার দফাওয়ারি জবাব না দেওয়ার অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

Reporter Name
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) বিরুদ্ধে আদালতে চলমান কয়েকটি মামলায় সময়মতো দফাওয়ারি জবাব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল না করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।অভিযোগকারীদের দাবি, এনবিআরের বিগত বছরের ঐক্য পরিষদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ষড়যন্ত্রমূলক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে ২০২৫ সালে আদালতে একাধিক মামলা করা হয়। কিন্তু মামলাগুলোতে আদালতের নোটিশ ও নির্দেশনা জারি হওয়ার পরও এনবিআর এবং আইআরডির পক্ষ থেকে যথাসময়ে দফাওয়ারি জবাব দেওয়া হচ্ছে না। ফলে মামলার শুনানি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে ঘুরতে হচ্ছে।আদালতের নোটিশের পরও জবাব না দেওয়ার অভিযোগসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সময়ে বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। তাঁদের অভিযোগ, ওই সময় আদালতের নোটিশ ও মামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসির ঘটনা ঘটেছিল।ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়ে বিষয়গুলো অবহিত করলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। এমনকি আদালতের আদেশ ও নির্দেশনা-সংক্রান্ত চিঠিপত্রের ক্ষেত্রেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, সাবেক প্রশাসনের সময়কার কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যপদ্ধতি বর্তমান প্রশাসনও অনুসরণ করছে কি না। তাঁদের প্রশ্ন, বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান ও আইআরডি সচিব আহসান হাবিবের সময়েও যদি মামলাগুলোর দফাওয়ারি জবাব আদালতে দাখিল না হয়, তাহলে এর কারণ কী?তাঁদের দাবি, বর্তমান প্রশাসন যদি আগের নীতি অনুসরণ না করে থাকে, তাহলে আদালতে চলমান মামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবে জবাব দাখিল না করার কারণ স্পষ্ট করা উচিত।এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।জবাব ও নথি দাখিলে বিলম্বে পিছিয়ে যাচ্ছে শুনানিপ্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এনবিআরের বিরুদ্ধে বা এনবিআর-সংশ্লিষ্ট অনেক মামলায় নির্ধারিত সময়ে দফাওয়ারি জবাব দাখিল না করার কারণে শুনানি বিলম্বিত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।তাঁদের মতে, কোনো মামলায় বিবাদীপক্ষের জবাব এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে আদালতে দাখিল না হলে বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনিক মামলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।একজন আইনবিশেষজ্ঞ বলেন, নির্ধারিত তারিখে জবাব, হাজিরা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না হলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এর ফলে মামলার নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট শাখায় আটকে থাকার কারণেও আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো পৌঁছায় না। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি ভুক্তভোগীদেরভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মামলাগুলোর কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা আর্থিক, মানসিক ও প্রশাসনিকভাবে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জবাব ও নথিপত্র দ্রুত দাখিল করা হলে মামলাগুলোর নিষ্পত্তির পথ সহজ হতে পারে।তাঁরা আরও বলেন, এনবিআরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, মামলা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।ভুক্তভোগীদের অভিযোগগুলোর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এনবিআর ও আইআরডির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category