রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের রংপুর জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খাদেমুল আরিফ পলাশ।
অভিযোগকারী নেতার দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন, মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হলেও পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যোগ্য ও প্রকৃত প্রার্থীদের মূল্যায়ন যথাযথভাবে হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৩ জুলাই কাউনিয়া উপজেলায় একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে গত ১১ আগস্ট নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
কাউনিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন—সারাই, হারাগাছ, কুর্শা, শহীদবাগ, বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমের জন্য এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের রংপুর জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খাদেমুল আরিফ পলাশ বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির শুমারি কার্যক্রমে যারা তথ্য সংগ্রহ করবেন ও তদারকি করবেন, তাদের নিয়োগ অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কাউনিয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব, আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয় নেওয়া হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখুক এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুক।”
তার অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সুবিধাভোগী পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তৈরি হবে। ফলে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচনে সামান্য অনিয়ম হলেও এর প্রভাব পরবর্তী সময়ে সুবিধাভোগী নির্বাচন ও সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে পড়তে পারে।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত ও যোগ্য পরিবারকে চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তার আওতায় আনা। তাই এ কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের জনবল নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।