শিরোনাম :
আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ির মালিককে কেয়ার বাংলাদেশের রিলিফ প্যাক প্রদান হাজীগঞ্জ পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা রহমান মিজির কবর জিয়ারত ও গণসংযোগে অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক টিটু পাইকদীতে নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মা, ছেলে-পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ রূপসায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আচমকা পরিদর্শন হাজীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরির অভিযোগ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের দাবি বেরোবির ট্রেজারার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, সামাজিক মাধ্যমে নানা অভিযোগ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয়: দেশ এডিশন-এর হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি হলেন মো: আশিক এলাহী সোনারগাঁয়ে তীব্র গ্যাস সংকট, ১৮ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

বেরোবির ট্রেজারার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, সামাজিক মাধ্যমে নানা অভিযোগ

Reporter Name
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)–এর নতুন ট্রেজারার হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে নানা অভিযোগ ও সমালোচনামূলক মন্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক আবু হানিফ সরকারের অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিএনপি ও ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। অভিযোগগুলো মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পোস্ট এবং মতামতের ভিত্তিতে সামনে এসেছে।

 

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নতুন ট্রেজারার নিয়োগের সমালোচনা করেন। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, অধ্যাপক আবু হানিফ সরকার অতীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে এমন ব্যক্তিকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হলো।

 

শামসুল আরেফিন তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে গ্রহণযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি করে।

 

শুধু ছাত্রসংগঠনের নেতারাই নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ ব্যবহারকারীও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে শিক্ষা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের ভাষ্য, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে পরিচালনা করাই উচ্চশিক্ষার পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক।

 

অন্যদিকে, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক আবু হানিফ সরকারের অতীত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকে নতুন নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন। তবে এসব মতামত ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের ঘটনা নতুন নয়। ফলে বেরোবির নতুন ট্রেজারার নিয়োগ নিয়েও যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিও দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের সাম্প্রতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তবে অপর একটি অংশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের মতে, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তাঁদের মতে, যদি কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকে, তবে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকা উচিত।

 

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করবেন।

 

নিয়োগের পর একদিকে যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনা চলছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা অবস্থান দেয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category