শিরোনাম :
সড়ক পরিবহনে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা, ট্রাফিক সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো দলী বিবেচনা করবেন না। রূপসায় কৃষকদের থেকে  ধান সংগ্রহ এর উদ্বোধন এ আজিজুল বারী হেলাল এমপি ‎মিঠাপুকুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়নি কেউ: পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পরিবারের পানগুছি সেতুর দাবিতে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের মানববন্ধন রংপুর আদালতে ওকালতনামা-জামিননামাসহ কাগজপত্রের দাম বৃদ্ধি, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিচার আরও কঠিন রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এটিএম আজম খান। জয়পুরহাট সদর চাউল ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করছে সরকার: ডা.শফিকুর রহমান মোরেলগঞ্জে রাতের আধারে জমি দক্ষলে বসতবাড়িতে লুটের অভিযোগ বদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতে গ্রাহকের সংযোগ কেটে চলছে বাণিজ্য, টাকা ছাড়া মিলছে না পুনঃসংযোগ
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

‎মিঠাপুকুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়নি কেউ: পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পরিবারের

Reporter Name
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

‎রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় দুধ ব্যবসায়ী ও কৃষক আবু সায়াদ ওরফে সাঈদ (৪১) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ এমন অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। পরিবারের দাবি, সাঈদ কে হত্যার পেছনে টাকার লেনদেন ও পূর্বপরিকল্পনার বিষয় থাকতে পারে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাঈদের সবুজ নামে এক বন্ধু তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে উপজেলার একটি আমবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন, ঘটনার ১০ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুজরুক সন্তোষপুর ইউনিয়নের উচাবালুয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু সায়াদ দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের পাশাপাশি গরুর দুধ বিক্রির ব্যবসা করতেন। পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। তার দুই ছেলে মেয়ে মা বাবা ও এক ছোট ভাই নিয়ে তার সংসার চলছিল। নিহতের স্বজনদের দাবি, গত ৬ মে সন্ধ্যার দিকে সাঈদের বন্ধু সবুজ তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, হয়তো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত কোনো কাজে তিনি বাইরে গেছেন। কিন্তু রাত গভীর হলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি।

‎নিহতের সাঈদ এর স্ত্রী আঞ্জুমান বিলকিস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সন্ধ্যার পর সবুজ নামে তার এক বন্ধু এসে আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায়। সে বলেছিল একটু কাজ আছে, গিয়ে আবার চলে আসবে। কিন্তু সেই যাওয়াই শেষ যাওয়া হলো। আমার স্বামী কারও ক্ষতি করত না। এখনো পুলিশ কাউকে ধরতে পারেনি। আমরা খুব ভয় আর আতঙ্কে আছি। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে তার বন্ধু সবুজ এর টাকা পয়সার লেনদেন ছিল। আমরা মনে করছি, সেই বিষয় নিয়েই হয়তো তাকে পরিকল্পনা করে ডেকে নেওয়া হয়েছে। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে তাদের ফাঁসি চাই। নিহত সাঈদ এর ছোট ভাই শাহা আলম বলেন,আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু পাইনি। পরদিন সকালে খবর পাই একটি আমবাগানে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে দেখি সেটা আমার ভাইয়ের মরদেহ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর আমরা থানায় এজাহার দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ ঠিকভাবে কাজ করছে না বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। আমরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নিহত সাঈদ এর পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত সাঈদের সঙ্গে কয়েকজনের আর্থিক লেনদেন ছিল। সেই সূত্র ধরেই হয়তো সাঈদ কে হত্যা করেছে তারা। হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। নিহত সাঈদের গ্রামের এক ভাই আব্দুল কাদের বলেন, সাঈদ খুব ভালো মানুষ ছিল। তার সঙ্গে কারও খারাপ সম্পর্ক ছিল বলে আমরা জানি না। কিন্তু যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে পরিকল্পিত ঘটনা। আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবার যেহেতু কিছু সন্দেহের কথা বলছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত। দ্রুত অপরাধীদের ধরতে না পারলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে। এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। ছোট দুই সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহতের স্ত্রী।

‎এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিলো। পরে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত সাঈদ এর ছোট ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছে। পরেরদিন মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয়। আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়ে চেষ্টা চলছে। তবে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান। স্থানীয়রাও দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category