শিরোনাম :
দিঘলিয়ায় এসএসসিতে A+ প্রাপ্ত ৪৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে গ্রীন লাইফের সংবর্ধনা নির্মাণকাজে বাধা ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ‎রংপুরে আলোচিত ৪ খুনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ‘খবরের কাগজের রংপুর প্রতিনিধি কে হেনস্থার অভিযোগ বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ, এক সপ্তাহে ৬ ঘটনায় সাংবাদিকদের আক্রান্তের দাবি।BJPC র রংপুরের চার খুন ‘সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড’ নয়: হিন্দু নেতারা চিরনিদ্রায় দিঘলিয়ার প্রথম সেনা কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার শহীদুল্লাহর বিদায় ‎মাদক নয়, খেলাধুলার আলোয় গড়ে উঠুক তরুণ সমাজ: রায়হান কবির মিল্টন রূপসার সাংবাদিক আব্দুল মান্নান শেখ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আদর্শ ইউনিয়ন গড়তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থী মোহিবুল্লাহ রফিক মোরেলগঞ্জে হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নে কোডেকের সংলাপ অনুষ্ঠিত
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

‎রংপুরে আলোচিত ৪ খুনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ‘খবরের কাগজের রংপুর প্রতিনিধি কে হেনস্থার অভিযোগ

Reporter Name
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

সাংবাদিক সেলিম সরকার কে হেনস্তার অভিযোগে সাংবাদিকদের মানববন্ধন।।

রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ) 

‎রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় আলোচিত চার খুনের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের রংপুর প্রতিনিধি সেলিম সরকার কে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পার্থ দাস সাংবাদিক সেলিম সরকারের মোটরসাইকেল আটকে চাবি কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে তাকে বিভিন্নভাবে মব তৈরী করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।

‎শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকের ব্যাগ তল্লাশি করেন। ব্যাগে সন্দেহজনক কোনো কিছু না পাওয়ার পর তাকে ঘটনাস্থল থেকে যেতে দেওয়া হয়। হেনস্থার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এবং সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শনিবার বিকেলে তিনি সহ আরও তিনজন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান।সংবাদ সংগ্রহ শেষে তারা পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকার দিকে যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করেন সেলিম সরকার। তিনি বলেন, পার্থ দাস প্রথমে তার মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি কেড়ে নেন। এরপর উচ্চস্বরে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে সেখানে জড়ো করতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে বেশ কয়েকজন মানুষ উপস্থিত হন। সেলিম সরকারের অভিযোগ, উপস্থিত লোকজনের সামনে পার্থ দাস তাকে নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, সাংবাদিক সেলিম সরকার একটি গলির ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু থাকতে পারে।

‎সেলিম সরকার বলেন, কোনো ধরনের অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তাকে জনসম্মুখে সন্দেহের মুখে ফেলা হয়। পার্থ দাসের এমন বক্তব্যের পর পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করা শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে আশপাশের আরও মানুষ সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেলিম সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্থ দাস তার ব্যাগে কী রয়েছে তা দেখার জন্য উগ্র আচরণ করতে থাকেন। পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা সাংবাদিকের ব্যাগ খুলে পরীক্ষা করেন। তবে সেখানে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছাড়া সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। ব্যাগ তল্লাশি শেষে ডিবি সদস্যরা বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর সাংবাদিক সেলিম সরকারকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেয়।

‎ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পার্থ দাস স্থানীয় লোকজন জড়ো করে সাংবাদিক সেলিম সরকারকে হেনস্থার করেন এবং মব পরিস্থিতি তৈরি করেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি পার্থ দাসকে শান্ত করার এবং বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি উল্টো সেখানে উপস্থিতদের সঙ্গেও রাগারাগি করেন এবং সবাইকে দোষারোপ করতে থাকেন। এদিকে, চার খুনের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সংবাদকর্মী।

‎ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস এবং তার বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তার অভিযোগ, একই বিষয়ে তাদের বক্তব্যে একাধিকবার পরিবর্তন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেই তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, “প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস এবং তার বাবা বিনয় দাস একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা মাঝেমধ্যে উগ্র আচরণও করছেন। তাদের এমন পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলেই তারা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষেপে যাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক কাজের অংশ। কিন্তু এ ধরনের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া এবং সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা উদ্বেগজনক। তার ভাষ্য, “তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা এখানে সংবাদকর্মীরা কাজ করতে আসুক সেটি চান না।”

‎এ বিষয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের ওই বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্থা করা হয়েছিল। তিনি জানান, ঘটনার একপর্যায়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন এবং সাংবাদিকের ব্যাগ খুলে পরীক্ষা করেন।এএসআই জসিম উদ্দিন বলেন, ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়া অন্য কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত চার খুনের ঘটনাটি নিয়ে এমনিতেই জনমনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ করছেন। এর মধ্যেই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে হেনস্থার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সংবাদকর্মীদের দাবি, কোনো ঘটনায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে প্রশ্ন করা কিংবা তথ্য যাচাই করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। এ ধরনের কাজে বাধা সৃষ্টি করা বা জনতা জড়ো করে সাংবাদিককে হেনস্থার পরিস্থিতি তৈরি করা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category