
নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল মকবুল তাহফিজুল কুরআন একাডেমী ও কওমী মাদ্রাসাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নিখোঁজ’ সংক্রান্ত প্রচারণাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দিয়ে সত্যতা যাচাই করার জন্য অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
২৮ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসার সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, মাদ্রাসার একটি শিশু বা একাধিক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। অথচ বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত (দা.বা.) বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ সুস্থ, নিরাপদ ও নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছে। আমাদের কোনো শিক্ষার্থী হারিয়ে যায়নি। কিছু অসাধু ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক অনুরোধ, কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচার বিশ্বাস করবেন না। কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন হলে সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করুন। যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার বা প্রচার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আল মকবুল তাহফিজুল কুরআন একাডেমী ও কওমী মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে কুরআনের হাফেজ, আলেম এবং আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলতে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী নিরাপদে রয়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচার শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্টই করে না, বরং অভিভাবকদের মাঝেও অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং কোনো তথ্য প্রচারের আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে এ ধরনের গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শেষে প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত (দা.বা.) দেশবাসী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমাদের সব শিক্ষার্থী ভালো আছে এবং নিরাপদে রয়েছে। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস না করে সত্য তথ্য জানার জন্য সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া সময়ের দাবি।