নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর।।
রংপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বদরগঞ্জ প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দুরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে)-এর সভাপতি ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার রংপুর ব্যুরো প্রধান সালেকুজ্জামান সালেক গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারের কার্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিউর রহমান-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। তাদের কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা হয়। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি তারা লাঞ্ছনার শিকার হন, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেন দুলাল বলেন, এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের হয়রানি ও অসম্মান করার প্রবণতা বাড়ছে। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন বলেন,সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি সাংবাদিকরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে না পারেন, তাহলে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক বলেন, আমরা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করি এবং জনস্বার্থে কাজ করি। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি এ ধরনের আচরণের শিকার হতে হয়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। অন্যদিকে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের সম্মানের সঙ্গে জড়িত। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিভিন্ন মহল থেকেও ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।