শিরোনাম :
শহীদ আবুল কাশেম ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সুকৃতি মন্ডল জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক (কারিগরি) নির্বাচিত ছাতকে ডোবার পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়ায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৪-এর উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠিত শহীদ আবুল কাশেম ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সুকৃতি মন্ডল জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক (কারিগরি) নির্বাচিত নড়াইলের কালিয়ায় পিআইও মোস্তফা কামাল বদলী হলেও কর্মস্থল ছাড়ছেন না ঝালকাঠিতে সেবাশ্রমে যুবদল নেতার ফ্যান ও নগদ অর্থ উপহার খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ”এর আওতাভুক্ত এলাকা বটিয়াঘাটা অন্তভূর্ক্ত মৌজাসমূহ নিয়ে আলোচনা সভা সভাপতি-সুষেন, দুলাল-সাধারণ সম্পাদক, নুপুর-সাংগঠনিক সম্পাদক, পলাশ-কোষাধ্যক্ষ “ছাতকে কেন্দ্রীয় শ্মশান কালী মন্দির পরিচালনা কমিটি গঠন মোরেলগঞ্জে নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নে উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগ-বেতন কেলেঙ্কারি, তদন্তে মিলল প্রাথমিক সত্যতা

Reporter Name
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

‎কারাগারে থেকেও রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও সমবায় মার্কেটের সাবেক চেয়ারম্যান তুষার কান্তি মণ্ডলের বিরুদ্ধে। তার মৌখিক নির্দেশে নিয়োগপত্রবিহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান, আঞ্চলিক নিবন্ধকের নির্দেশ অমান্য, অবৈধ নিয়োগ, ব্যাংকের বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও শত কোটি টাকার সম্পদ বণ্টনে বিতর্কসহ একের পর এক গুরুতর অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঐতিহ্যবাহী এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া তদন্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে “প্রাথমিক সত্যতা” পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে রংপুরের সমবায় অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেন তুষার কান্তি মণ্ডল। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সমিতির সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একক আধিপত্যে ব্যাংক পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার সময়েই ব্যাংকে অনিয়ম, অস্বচ্ছ নিয়োগ ও আর্থিক দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যার ধারাবাহিকতা এখনও চলমান। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হচ্ছে কোনো নিয়োগপত্র ছাড়াই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি ও বেতন প্রদান। অভিযোগ অনুযায়ী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর খায়রুন নাহার দীর্ঘদিন ধরে বৈধ নিয়োগ ছাড়াই ব্যাংক থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।

‎বিষয়টি নিয়ে রংপুর সমবায় অধিদপ্তরের আঞ্চলিক নিবন্ধক মোখলেছুর রহমান তদন্ত করে তাদের বেতন বন্ধের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিত নির্দেশনা দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সমবায় কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন সরকার নিয়মিতভাবে তাদের বেতন প্রদান অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের হিসাবরক্ষণ দায়িত্বে থাকা প্রবীর কুমার সরকার বলেন, “তুষার কান্তি মণ্ডল আমার নিকটাত্মীয়। তিনি আমাকে এখানে নিয়োগ দিয়েছেন। এখনও হাতে কোনো নিয়োগপত্র পাইনি। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বেতন দিচ্ছে।” অন্যদিকে অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর খায়রুন নাহারের বক্তব্য আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কখন অফিসে আসি, কখন যাই, নিয়োগ ছাড়া চাকরি করি কি না—এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। আমার পেছনে লাগবেন না, তাহলে আপনাদের ক্ষতি হয়ে যাবে।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের বর্তমান সভাপতি ফরিদ উদ্দিন সরকার বলেন, “আগের সভাপতি যেভাবে তাদের বেতন দিয়েছেন, আমিও সেভাবেই বেতন দিচ্ছি।” তবে আঞ্চলিক নিবন্ধকের লিখিত নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ব্যাংক অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯১৫ সালে রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক। বর্তমানে দুই জেলার ১২ উপজেলার ৫১২টি সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হয় এই ব্যাংকের মাধ্যমে। দীর্ঘ সময় ধরে সদস্যভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক প্রভাববলয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমবায় ব্যাংকের একাধিক সদস্য জানান, ব্যাংকের বহুতল ভবন নির্মাণে ১০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বচ্ছ হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কয়েকজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই সদস্যদের নানাভাবে চাপে রাখা হতো। এমনকি ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে কথা বললে সদস্যপদ হারানোর ভয় দেখানো হতো বলেও দাবি করেন তারা। অভিযোগ আরও রয়েছে, ব্যাংকের বহুতল ভবন নির্মাণকাজে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার খাইরুল কবির রানাকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরবর্তীতে জুলাই হত্যা মামলায় আসামি হয়ে তুষার মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর, চতুর্থ ও পঞ্চম তলার ১০৫টি দোকান কৌশলে ঠিকাদারের নামে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে ঠিকাদার খাইরুল কবির রানা বলেন, “বিষয়টি শুনেছি, পরে কথা বলবো।”

‎এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় সমবায় প্রশাসন। বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধকের কার্যালয়ের নির্দেশনায় গত ২৩ এপ্রিল ব্যাংকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। উপজেলা সমবায় অফিসার ও তদন্তকারী প্রধান কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান এবং জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক মঞ্জুর আলম ব্যাংকের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তদন্ত শেষে আফতাবুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।” তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার ও খায়রুন নাহার উপস্থিত থাকলেও অভিযোগের আরেক পক্ষ ঠিকাদার খাইরুল কবির রানা উপস্থিত ছিলেন না।

‎রংপুর সমবায় অধিদপ্তরের আঞ্চলিক নিবন্ধক মোখলেছুর রহমান বলেন, “রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আগেও তদন্ত হয়েছে। কিছু নিয়োগের কোনো বৈধতা পাওয়া যায়নি। লিখিতভাবে বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ বেতন দিলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।” সর্বশেষ আগামীকাল শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রংপুর জেলা সমবায় সমিতি কার্যালয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফরিদ উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন বিষয়টি বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট আকারে পাঠানো হবে।”

‎এদিকে তদন্ত শুরুর পরও অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে পুনরায় বেতন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন সরকার বলেন, “তাদের আর্থিক অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই বেতন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংককে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্যের ঘটনায় সমবায় অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা আসলে কার হাতে? সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category