শিরোনাম :
সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারে নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভা মাদক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ” —হাজীগঞ্জে মাদকবিরোধী সমাবেশে সাবেক মেয়র বাচ্চু হাজীগঞ্জ পৌর ১১নং ওয়ার্ডে ৪ জন শীর্ষ মাদক বিক্রেতা আত্মসমর্পণ। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে খুলনা জেলা তাঁতী দলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  কাউনিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি গণঅধিকার পরিষদ নেতার বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের নাম আজ তাঁর জন্মদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজ ৫১ তম মৃত্যুবার্ষিকী ‎সকালবেলা পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর বদরগঞ্জের সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ঢাকায় ওএসডি ‎ খুলনায় আত্মপ্রকাশ করলো খুলনা জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ রাজশাহীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

‎সকালবেলা পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর বদরগঞ্জের সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ঢাকায় ওএসডি ‎

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জাতীয় দৈনিক সকালবেলা পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর বদলি করা হয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামকে। তাকে প্রত্যাহার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে ‘সমাজসেবা অফিসার (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)’ বা ওএসডি হিসেবে ন্যস্ত করা হয়েছে।

‎সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে সমাজসেবা অফিসার (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে ন্যস্ত করা হলো।

‎অফিস আদেশ অনুযায়ী, তাকে ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলি বা ন্যস্তকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওই দিন অপরাহ্ণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (Stand Released) বলে গণ্য হবেন।

‎সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ পরিচালক (উপসচিব) মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল করিম স্বাক্ষরিত ওই আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট মহল

‎বদরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গত ১০ আগস্ট জাতীয় দৈনিক সকালবেলার ৭ নম্বর পৃষ্ঠার নগর-মহানগর অংশে গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া, স্বজনপ্রীতি, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে মনোনয়ন, এক ইউনিয়নের আবেদনকারীকে অন্য ইউনিয়নে নিয়োগ এবং মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত না হয়েও একজন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

‎প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে নিয়োগপ্রত্যাশী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি পালিত হয়। কোথাও মানববন্ধন, কোথাও প্রতিবাদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়।

‎এরপরই বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় ওএসডি করার আদেশ আসে।

নিয়োগে ‘অনিয়মের ছড়াছড়ি’ অভিযোগ

‎ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বদরগঞ্জে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে কাগজপত্র যাচাই, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।

‎অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেন, যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং প্রভাবশালী মহলের সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম তালিকায় আসা এবং এক ইউনিয়নের আবেদনকারীকে অন্য ইউনিয়নে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।

‎তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য নির্বাচিত হওয়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনিয়মের প্রমাণ নয়; বিষয়টি নিশ্চিত করতে আবেদনপত্র, পরীক্ষার নম্বর, মূল্যায়নপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।

নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ

‎সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নিয়োগপ্রত্যাশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার কার্যক্রম ২২ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলে।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত নির্বাচিত তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহ পর গত ৬ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

‎ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। তাদের প্রশ্ন—সব পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পরও কেন নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা হলো না? এই সময়ের মধ্যে তালিকায় কোনো পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নির্বাচিত হয়েও নিজের নাম প্রত্যাখ্যান

‎নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার সৃষ্টি হয় চূড়ান্ত তালিকায় থাকা দুই প্রার্থীর নিজের নাম প্রত্যাখ্যানের ঘটনায়।

‎বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন থেকে সুপারভাইজার পদে চূড়ান্ত মনোনীত মোজাহেদুল ইসলাম সবুজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, তালিকা পর্যালোচনা করে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ দেখতে পেয়েছেন।

‎তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক ইউনিয়নের আবেদনকারীকে অন্য ইউনিয়নে নিয়োগ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে মনোনয়ন এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত পরিবারের সদস্যদের তালিকায় স্থান দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে।

‎এসব অভিযোগের প্রতিবাদে এবং স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন নিয়োগপ্রক্রিয়ার দাবিতে তিনি চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশিত নিজের নাম প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।

‎একইভাবে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের প্রার্থী মাসুদ রানাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পোস্ট করেছেন বলে জানা গেছে।

‎চূড়ান্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীরাই যদি তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন আবেদনকারীরা।

একই পরিবারের দুই সদস্যের নাম নিয়ে প্রশ্ন

‎নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগের অংশ হিসেবে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের দুই ছেলে মাসুদ রানা ও মমিন ইসলামের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।

‎তবে একই পরিবারের দুইজন নির্বাচিত হওয়া নিজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। তারা পৃথকভাবে আবেদন করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে থাকলে সেটি বিধিসম্মত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে পরীক্ষার নম্বর, মূল্যায়নপত্র ও নির্বাচনের মানদণ্ড যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

‎ভাইভায় অনুপস্থিত থেকেও নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগ

‎কুতুবপুর ইউনিয়নের নিয়োগপ্রত্যাশী সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, কুতুবপুর সরদারপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে রিনা বানু মৌখিক পরীক্ষায় স্বশরীরে উপস্থিত না হয়েও চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত হয়েছেন।

‎এই অভিযোগ সত্য হলে তা নিয়োগপ্রক্রিয়ার গুরুতর অসঙ্গতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে ভাইভা বোর্ডের উপস্থিতি তালিকা, স্বাক্ষর, মূল্যায়নপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগ

‎চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

‎বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের সবুজ বাদশা, একই ইউনিয়নের আবু সায়েম এবং লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মাসুদ রানাসহ কয়েকজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের সবার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারীর স্বজন নিয়েও প্রশ্ন

‎বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত রুপালি বেগম নামের এক কর্মচারীর ছেলে চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

‎নিয়োগপ্রত্যাশীদের প্রশ্ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকটাত্মীয় আবেদন করলে সেখানে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর আত্মীয় নির্বাচিত হওয়াও এককভাবে অনিয়মের প্রমাণ নয়। এ ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও মূল্যায়নের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

মেধাবীরা বাদ, প্রশ্নবিদ্ধরা নির্বাচিত’—প্রার্থীদের ক্ষোভ

‎চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক নিয়োগপ্রত্যাশী। তাদের দাবি, ভালো পরীক্ষা দিয়েও অনেকে নির্বাচিত হননি। আবার যাদের যোগ্যতা, উপস্থিতি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের কেউ কেউ চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

‎গোপীনাথপুর ইউনিয়নের প্রার্থী কুলসুম বানু বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদন করেছি। ভাইভায় অংশ নিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় আমার নাম নেই। আমার কাগজপত্র ও মূল্যায়নের কী হয়েছে, সেটি জানতে চাই।”

‎দামোদরপুর ইউনিয়নের প্রার্থী আকতারুল ইসলাম বলেন, “ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। এরপরও তালিকায় নাম নেই। কেন বাদ দেওয়া হলো, তার সঠিক ব্যাখ্যা চাই।”

‎রামনাথপুর ইউনিয়নের প্রার্থী হাবিব বলেন, “পরীক্ষা দেওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ফলাফল হবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।”

‎কালুপাড়া ইউনিয়নের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, “স্বচ্ছভাবে নিয়োগের আশা করেছিলাম। ফলাফল নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।”

‎লোহানীপাড়া ইউনিয়নের প্রার্থী মনিরা বলেন, “আমরা পরীক্ষা দিয়েছি। ফলাফল নিয়ে যে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, তা পরিষ্কার করা দরকার।”

‎পৌরসভার প্রার্থী মরিয়ম সুলতানা বলেন, “অনেক আশা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও পুনরায় যাচাই চাই।”

ছাত্রদল নেতার অভিযোগ

‎বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাইনুল ইসলাম রাব্বি অভিযোগ করে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

‎অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎ইউএনওর বক্তব্য

‎নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, কারও কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎তবে সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

‎রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুনঃতদন্তের দাবি

‎ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসানে পুরো বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

‎তাদের দাবি, প্রতিটি প্রার্থীর আবেদনপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর, উপস্থিতির তালিকা, মূল্যায়নপত্র এবং চূড়ান্ত তালিকা পর্যালোচনা করা হোক। একই সঙ্গে কে কত নম্বর পেয়েছেন, কী যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রার্থীদের অবস্থান কী—এসব তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎তাদের মতে, ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি সরকারি কর্মসূচির মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে যারা নিয়োগ পাবেন, তাদের নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

বদলির পর নতুন করে আলোচনায় নিয়োগপ্রক্রিয়া

‎সকালবেলা পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ, পরবর্তী সময়ে আন্দোলন-মানববন্ধন ও স্মারকলিপি এবং এরই মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামকে ঢাকায় ওএসডি হিসেবে বদলির ঘটনায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

‎তবে বদলি বা ওএসডি করা হয়েছে মানেই তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই।

‎এখন দেখার বিষয়, বদরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক তদন্ত করে কি না এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয় কি না। নিয়োগপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা—রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা সুপারিশ নয় মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই যেন চূড়ান্ত নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category