রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
রংপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সবজি বীজ খামারে শ্রমিকদের মজুরির টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন বিজয় টিভির রংপুর ব্যুরো প্রধান ও ক্যামেরাম্যান। এ সময় সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি এবং ক্যামেরাম্যানকে ধাক্কা দিয়ে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে বিএডিসির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত বিএডিসির সবজি বীজ খামারে। এ ঘটনায় বিজয় টিভির রংপুর ব্যুরো প্রধান মো. হামিদুর রহমান হামিদ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিক হামিদুর রহমানের অভিযোগ, বিএডিসির সবজি বীজ খামারে মাঠপর্যায়ে কাজ করা শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে অনিয়মের তথ্য জানতে পারেন তিনি। ওই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যামেরাম্যান মো. সাগর ফারাজিকে সঙ্গে নিয়ে খামারে যান। সেখানে সরেজমিনে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তারা। হামিদের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ২৬ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখেন। তবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে ওই খামারে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রকৃতপক্ষে কতজন শ্রমিক কাজ করছেন এবং মজুরির অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে তথ্য জানতে শ্রমিক সর্দারের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। এ সময় বিএডিসির উপপরিচালক আবু জাফরসহ আরও একজন সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের বিষয়টি জানতে পেরে উপপরিচালক আবু জাফর সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করারও অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিক হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে যাইনি। শ্রমিকদের মজুরি ও কাজের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তা আমাদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন এবং নানা ধরনের হুমকি দেন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন ক্যামেরাম্যান সাগর ফারাজি। এ সময় তাকে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এতে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি বিজয় টিভির লোগোও নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। তাদের খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখানো এবং দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন হামিদুর রহমান। পরে তারা কোনোভাবে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে সহকর্মীদের বিষয়টি জানান।
ঘটনার পর সাংবাদিক হামিদুর রহমান বুধবার তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে বিএডিসির খামারে শ্রমিকের সংখ্যা, মজুরি পরিশোধ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৃতপক্ষে কতজন শ্রমিক কাজ করেছেন, কতজনের নামে মজুরি বরাদ্দ হয়েছে এবং সেই অর্থ যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না—তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হতে পারে। তবে সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে বিএডিসির উপপরিচালক আবু জাফরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হুমকি কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।