সুমন বিপ্লবঃ
কাঁচা হাতের অসংখ্য লেখালেখি
পড়েছি অনেকবার,
ভুলচুক, বানান বিভ্রাট
গুরুচন্ডলী শব্দ যোজন
সাধু চলিত মিশ্রন
ইত্যাদি ত্রুটি বিচ্যুতি হেতু
কবিতা দেখে কাটাকুটি করেছি
বারংবার-
বাঁচাতে পারিনি তার
প্রাথমিক কোন কবিতার শিশু।
তবু অজস্র ধারায়
কবিতা-ঝাপির উৎস মুখ
তার ছিল অবারিত।
সুমন বিপ্লবের লেখনী থেকে একদিন
শুদ্ধতম কবিতাটি যে অনায়াসে
জন্ম নিবে এ প্রত্যয়টি ছিল
সে দিন মনে।
প্রাতিষ্ঠানিক লেখা পড়ায়
মনোযোগ ছিল না আদৌ,
তথাস্ত লেখালেখির নেশা ছিল
তার দুর্নিবার।
উদাস উদাস মনের বালকটি ছিল
সুমন বিপ্লব,
স্কুলের রুটিন মাফিক পড়ালেখা
ভাল লাগতো না বলে
সময় কাটাবার অজুহাতে ডুবে যেতে
দৈনিক (খবরের) কাগজের পাতায়
খুঁটে খুঁটে পড়তো কি যে তা সেই জানে।
কলেজ অফিস থেকে ফিরে
প্রায়ই দেখেছি তারে
পাখির নীড়ের মতো
আমার ‘ক্ষনিক ঠিকানা’র
এক চিলতে বারান্দায় বসা,
হাতে কবিতার খাতা
চোখে মুখে কত কি যে ভাবনার
বেমালুম কলানো বীজ।
একদা সবুজ অরন্যের সোনার হরিণ।
শৈল্পিক খাঁচায় পুষিবে বলে
বাসনা ছিল তার
আবাল্যের মনি কণ্ঠপুরে।
মানুষে মানুষ আছে
মনের ভেতর আর এক মন আছে,
সাহিত্য শিল্পের পলল জমিনে
সুশ্রীতা আছে,
সুমনের দু’চোখে কি যে আছে?
ধর যার কাছে বিদেশ আঙ্গিনা
দেশ-দেশান্তর যার ঠিকানা
সেই তো মুসাফির মনোতোষঃ
বাংলাদেশের দক্ষিণ জনপদের যাযাবর
একজন সুমন বিপ্লব আত্মবিপ্লবী;
সেদিনের সব স্কুল পড়ুয়া
ঘরের টান মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে
সহসা ভারতমুখে নিরুদ্দেশ,
ব্যর্থ অনুসন্ধানে
স্নেহশীল বাবা মা’র
চোখের গড়ানে দুঃখবহ নদী
ক্লান্ত শরীর জীর্ন শির্ন প্রায়;
অতঃপর বছরান্তে সুমনের ঘরে ফেরা
সে তো ফেরা নয়-আরো বড় পলায়ন,
এবার স্বদেশেই দেশান্তরী
খুলনা থেকে ঢাকা
ঢাকা থেকে সিলেট জেলার
শাহ জালালের মাজারে,
অতঃপর সেখান থেকে
সিলেট এর আকিলপুর গ্রামে
মুক্তার আলীর বাড়িতে
আশ্রিত সুমন
এতদিনে খুঁজে পেল কাঙ্খিত জন।
মুক্ত মনের মুক্তার আলী
মুহূর্তে বনে গেল
সুমনের যথার্থ সাথী
জ্ঞান চর্চা ও সাহিত্য সাধনার দোসর,
নিপুণ শিল্পীর হাতে আঁকা
ছবির মতো গ্রাম শান্তির নীড়
আকিলপুরস্থ কতিপয় সহযোগী
যুবকের নিষ্ঠতায় আর
সুমনের প্রানবন্ত প্রচেষ্টায়
প্রতিষ্ঠা পেল আকিলপুরে
প্রতিভা পাঠাগার।
ভবঘুরে সুমন আকিলপুরবাসীর
প্রাণের টানে এবার বন্ধী হলো,
নন্দিত হলো
প্রতিভার প্রথম সূর্য আলোকে।
অতঃপর তার নিয়মিত লেখালেখি
‘সিলেট বাণী’তে অব্যাহত
১৯৮৭ থেকে ৯৯ একটানা একযুগ
নিরুদ্দেশ মানুষটির সাধনার ফসল,
শিল্পীত রেশমের কারু কাজ
বহমান বাংলা-বাঙালির সাহিত্য বাসরে
‘প্রতিভার প্রথম সূর্য’ শিখায়।
জ্বলে ঝলসে যায় অন্তরের দুঃখটুকু
অথবা কমরেড বাবার শেষ কৃত্বের
মাটির ফলক অভিমুখে
নিবিড় উচ্চারণে রচিত তার ‘কৃষ্ণচূড়া’
পিতৃ বিয়োগ ব্যথার দান ‘দিপ্তী’ বোনে
তার অশ্রুময় চোখের কোণে;
কথায় কথায় গল্প গাঁথা
‘আমরা তিনজন’
রহমান আনিস, জাকারিয়া রফিক
এবং সুমন বিপ্লব তিন বন্ধুর
ত্রিবেনী বন্ধন সমতলে
একদা জাগ্রত হবে
‘আকিলপুরের রাজপুত্র’
সিথেনের কাঠি পোথেনে
পোথেনের কাঠি সিথেনে।
অতঃপর লেখনি
সাপ্তাহিক ‘জনধারায়’।
লেখা-১৯৯৭ সাল।