শিরোনাম :
‘সামনে হুজুর, পেছনে দুশমনি’—বিরোধিতাকারীদের নিয়ে মুফতি সালেহর ফেসবুক পোস্ট রংপুরে ইয়াবা বিক্রির সময় যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ ইসলামের স্বার্থেই জোট হয়েছিল , ইসলামের স্বার্থেই বেরিয়ে এসেছি: ফয়জুল করীম বাংলাদেশে কেয়ামত পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে না: মুফতি ফয়জুল করীম সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু ক্ষতিপূরণের অর্থ অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এন. এম. ঈসা মোরেলগঞ্জে দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধির পিতার ইন্তেকাল: মোরেলগঞ্জে দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধির বাবার ইন্তেকাল খুলনায় পিকআপের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত, চালকসহ আটক ২ শরণখোলায় কোডেকের সংলাপ অনুষ্ঠিত বদরগঞ্জে বিধবা নারীকে পিটিয়ে জখম করলেন আরেক নারী।
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

ডুমুরিয়ার তালতলা নদী মাত্র এক বছরেই পুনরায় ভরাট: পুনঃখননের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে: খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের সুন্দরবুনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী তালতলা নদীটি মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আবারও পলি পড়ে সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। সদ্য খনন করা নদীটি হঠাৎ সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়ায় স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীটির স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীটি খননের কাজ শেষ করে। তবে খননের মাত্র এক বছরের মধ্যেই পলি জমা হয়ে নদীটি পার্শ্ববর্তী জমির সমতলে চলে এসেছে। এতে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে ড্রেজিং বা খননকাজের গুণগত মান ও এর সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে।
নদীটি দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আটলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “তালতলা নদীটি এই এলাকার কৃষিকাজ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর নদীটি খনন করার সময় এলাকার মানুষ বুক ভরা আশা বেঁধেছিল যে, এবার হয়তো জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে তারা মুক্তি পাবে। কিন্তু খননের এক বছর যেতে না যেতেই নদীটি আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে, পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। সরকারি কোটি কোটি টাকার বাজেট খরচ করে যদি এক বছরের মধ্যে নদী সমতল হয়ে যায়, তবে এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত সরেজমিনে এসে সঠিক কারিগরি সমীক্ষার মাধ্যমে নদীটি পুনরায় খনন ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”
নদীটির বর্তমান পরিস্থিতি ও পলি ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন জানান, “জোয়ার-ভাটার প্রবণতা এবং পলি প্রবাহের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোতে পলি জমার হার খুব বেশি। পলি ভরাটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও নদী প্রবাহের পলিট্র্যাপ পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীটিকে পুনরায় প্রবাহমান করতে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় কিনা, সে বিষয়ে আমাদের টেকনিক্যাল টিম খুব শীঘ্রই এলাকা পরিদর্শনে যাবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা‌ শ্রীকান্ত, বলরাম, রফিকুল ইসলাম ও সবিতা রানী, জানান, নদীটি দ্রুত পুনঃখনন না করা হলে আশেপাশের কয়েকশো একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে এবং চলতি মৌসুমে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। নদীটিকে বাঁচাতে তারা দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জোর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category