শিরোনাম :
‎বিরলে কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে আটক-১ কালুপাড়ায় ১৫ টাকা কেজিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হচ্ছে:‎স্বস্তিতে নিম্নআয়ের মানুষ  হাজীগঞ্জে ইমাম রাব্বানী দরবার শরীফ থেকে শামীম রেজাকে আজীবন বহিষ্কার দৈনিক ইবি নিউজের সহকারী বার্তা সম্পাদক কলি আক্তার আহত ডাঃ হাঃ রোডের কোলঘেঁষে মাদ্রাসা ঠেস বাসস্টপের নলেজ সিটিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষক দিবস উদযাপন বটিয়াঘাটায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্য উদযাপিত হয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ‎তারাগঞ্জে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত  ‎নাগেরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা পালিত  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রূপসায় পদ্ম বিলের খালে মাছ অবমুক্ত মোরেলগঞ্জে জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনুষ্ঠিত
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন: বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও ‘টিআরএম’ বাস্তবায়নের তাগিদ

Reporter Name
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

শেখ মাহতাব হোসেন (ডুমুরিয়া, খুলনা) : খুলনা জেলার ডুমুরিয়া-ফুলতলা এবং যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর—এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্য ‘জলাবদ্ধতা’ আর কোনো সাময়িক বা মৌসুমি দুর্যোগ নয়; বরং এটি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চেপে বসা এক স্থায়ী অভিশাপ। স্থানীয় জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভবদহ স্লুইসগেট আজ দীর্ঘস্থায়ী এই মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের এক চরম প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ভবদহ ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এই পলিজনিত কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন।

সম্প্রতি এই সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ, অতীতের সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল ‘বিল ডাকাতিয়া’সহ ভবদহ অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি বছরের সিংহভাগ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী, হরি, ভদ্রা ও শালতা নদীর তলদেশ পলি জমে উঁচু হয়ে যাওয়ায় বিল থেকে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ।

এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে অঞ্চলটির সামগ্রিক কাঠামোর ওপর:

অর্থনৈতিক বিপর্যয়: ফসল, মাছের ঘের ও সবজি চাষ বিনষ্ট হয়ে ধসে পড়েছে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি।

অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি: রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর প্লাবিত থাকছে।

স্বাস্থ্য ও সুপেয় পানির সংকট: স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং নিরাপদ পানির উৎসে দূষণ ঘটায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।

সামাজিক অস্তিত্বের ঝুঁকি: প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি।

মূল কারণ বিশ্লেষণ

পোল্ডার ব্যবস্থার অনভিপ্রেত ফল ১৯৬০-এর দশকে জোয়ার-ভাটা ও বন্যা থেকে সুরক্ষার জন্য নির্মিত পোল্ডার (বাঁধ-ঘেরা এলাকা) ব্যবস্থার কারণে জোয়ারের পলি প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফলে পলি সরাসরি নদীখাতে জমে নদীগুলোকে ভরাট করে ফেলেছে।

পলি প্রবাহ ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো
উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, অবৈধ নদী দখল, নদীর চরে ইটের ভাটা স্থাপন এবং বিলে অননুমোদিত নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভিন্ন সময়ে নেওয়া স্বল্পমেয়াদী খনন ও রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পগুলো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার অভাবে স্থায়ী ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সমাধান হিসেবে ‘TRM’: সম্ভাবনা ও আস্থার সংকট
স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতালব্ধ উদ্ভাবন টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (TRM) বা জোয়ারাধার পদ্ধতি হলো কারিগরিভাবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এতে সাময়িকভাবে পোল্ডারের বাঁধ কেটে জোয়ারের পলিযুক্ত পানি বিলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়, ফলে পলিতে বিল উঁচু হয় এবং নদী খাত পলি মুক্ত হয়ে নাব্য থাকে।
আস্থার সংকট প্রধান বাধা
বিল ভায়না ও সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে TRM-এর সাফল্য থাকলেও সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং বৈজ্ঞানিক মডেলিং মেনে সমন্বিতভাবে কাজ না করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা: দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-কে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন: ভবদহ ও সংলগ্ন ৫টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে সেনাবাহিনী তদারকি করছে।

বাস্তবায়নে ধীরগতি: টেকসই TRM সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে সম্প্রতি স্থানীয় সংগঠনগুলো দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

সমন্বিত সমাধান-কাঠামো ও সুপারিশ
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই অভিশাপ দূর করতে একটি ত্রি-মুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:

চলমান ৮১.৫ কিমি নদী পুনঃখনন কাজ দ্রত শেষ করা।
তীব্র প্লাবিত বিলগুলোতে পাম্পের মাধ্যমে সেচ ও তাৎক্ষণিক ত্রাণ নিশ্চিত করা।
খাল-নদীর অবৈধ দখল ও অননুমোদিত মাছের ঘের বা নেট-পাটা উচ্ছেদ করা।
মধ্যমেয়াদী পদক্ষেপ
IWM-এর সমীক্ষা অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক মডেলিং মেনে ধাপে ধাপে বিলে TRM চালু করা।
ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত স্বচ্ছ ও দ্রুত ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন।
স্থানীয় পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও কৃষকদের প্রকল্প পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category