বেনজীর আহমেদ মুকুল :দিঘলিয়া প্রতিনিধি
দীঘল দ্বীপ দিঘলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “দীঘল দ্বীপ দিঘলিয়া হাইকিং ২০২৬”। হাঁটার সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ২৫ জন হাইকার।
গতকাল শুক্রবার(২১ আগষ্ট) সকাল ৭টায় দেয়াড়া স্টিমার খেয়াঘাটের নদীর পারে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী হাইকিং কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. ফরহাদ হোসেন।
‘হাঁটুন, সুস্থ থাকুন—প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করুন’ এই বার্তাকে সামনে রেখে হাইকাররা প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন। নদীর পাড়ের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করে দীঘল দ্বীপ দিঘলিয়ার চারপাশ ঘুরে তাদের পথযাত্রা সেনহাটি, কাটাবন, বেলেঘাট, কামারগাতি, আড়ুয়া ফেরিঘাট, বারাকপুর ও দিঘলিয়া হয়ে আবার স্টিমার ঘাটে এসে শেষ হয়।
হাইকিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভার আয়োজন করা হয়। এসব পথসভায় নিয়মিত হাঁটার শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা, সুস্থ জীবনযাপনে দৈনন্দিন হাঁটার গুরুত্ব এবং স্থানীয় নদী, গাছপালা, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের মতে, হাঁটা শুধু শরীরচর্চা নয়; এটি মানুষকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার একটি সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতিকে দেখা, নদী-জলাভূমি ও গাছপালার সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হতে পারে।
হাইকিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে চন্দনীমহলের কাটাবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের সক্রিয় ভূমিকারও জানান দেন।
আয়োজকরা বলেন, “সুস্থ মানুষ, সুন্দর প্রকৃতি ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি টেকসই ও মানবিক সমাজ।” তাই প্রতিদিনের জীবনে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার নদী, গাছপালা, জলাভূমি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাসকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ে খুলনা রানার্স ও আলোর মিছিল যৌথভাবে এ আয়োজন করে। পাশাপাশি সহযোগিতায় ছিল ভোরের সাথী, হেলথ ক্লাব ও গ্রীন লাইফ।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রানার্সের অ্যাডমিন মো. মোস্তফা কামাল, আলোর মিছিলের সভাপতি শেখ তারেখ এবং হেলথ ক্লাবের সিনিয়র প্রশিক্ষক এম. এ. নোমান।