শিরোনাম :
২৮ অক্টোবর ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে দিঘলিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত দিঘলিয়ায় প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উপজেলা প্রেসক্লাব দিঘলিয়ার সহসভাপতি ইসমাইল হোসেনের ব্রেন টিউমার, শুক্রবার অস্ত্রোপচার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসও জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ‎বদরগঞ্জে সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে এক ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই সাড়ে ৩ হাজার মণ পাট দৈনিক আজকের সারাদেশের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও কেক কাটা ডুমুরিয়ায় মানকচু বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দিঘলিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৫ ঘলিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

দিঘলিয়ায় প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

Reporter Name
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

 

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ করে সিংহভাগ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের জনৈক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন ওই নেতা। এ প্রকল্পগুলোর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ থেকে। প্রকল্পগুলো হলো মোল্যা ডাঙ্গা আগারখাল কূল মসজিদ, মোল্যাডাঙ্গা ঈদগাহ, কেটলা হাজরাতলা সার্বজনীন মন্দীর, কেটলা বরইতলা মসজিদ। মোল্যাডাঙ্গা ঈদগাহ কমিটির সভাপতি সাবেক সেনা সদস্য জহির উদ্দিন বলেন, আমাকে ৪ টন চাল দেওয়া হয়েছে। চাল বিক্রি করে পেয়েছি ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, ঈদগাহের অর্ধেক আগে ইটের সলিং করা ছিল। পাশে ছিল নিচু জায়গা। যেখানে মাটি কেটে ভরাট করিয়ে ইটের সলিং করা হয়েছে। ঈদগাহটা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে অবহেলিত। কিন্তু এলাকাবাসী বলছে ভিন্ন কথা। পুরা ঈদগাহ মাঠ পূর্ব থেকেই করা। গেটও একটা সামাজিক সংগঠনের তোলা ফান্ড থেকে করা। উক্ত সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ঈদগাহ মাঠও করা।
মোল্যাডাঙ্গা আগার খাল কূল মসজিদে প্লাস্টার ও মেঝে ঢালাই প্লাস্টার আগে থেকেই ছিল। নতুন করে শুধু রংয়ের ওপরে রং টানা হয়েছে। তবে কেউ কেউ এ কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। উক্ত মসজিদে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খরচ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তারা বলছেন ফ্লোরের কাজ ও বাইরে-,ভেতরে প্লাস্টার করে রং করা হয়েছে। তবে এ মসজিদের কাজ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরিমাপ করা প্রয়োজন।
কেটলা হাজরাতলা সার্বজনীন মন্দীর ও বরইতলা মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যাপক উন্নয়ন ও দুর্নীতি হয়েছে। যা বিজ্ঞান প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজের যাচাই করা দরকার। বরইতলা মসজিদে পূরাতন একটা ল্যাট্রিন প্লাস্টার তুলে নতুন করে প্লাস্টার করে রং করা হয়েছে। যে কাজটি মিস্ত্রীকে চুক্তি ভিত্তিক করালো হয়েছে এবং মালামালসহ মিস্ত্রীকে নামে মাত্র ৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে হাজরাতলা মন্দিরে শুধু মন্দীরের বারান্দা সংস্কার করা হয়েছে। এখানেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবী করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের মোল্যাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রকল্প জমা দিয়ে নামমাত্র কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পগুলো হলো-আগারখাল কূল মসজিদের উন্নয়ন কাজ। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ২ লাখ টাকা। মোল্যাডাঙ্গা ঈদগাহের উন্নয়ন কাজ। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
কেটলা সার্বজনীন পূজা মন্দীরের উন্নয়ন কাজ। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ২ লাখ টাকা। বরইতলা মসজিদের উন্নয়ন কাজ। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ২ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে এবং ব্যয়ের হিসাব কতটা স্বচ্ছ—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনকি এ কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল গাজীরহাটে পূজা মন্দীর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সনাতনি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে মতবিনিময় সভায় জনসন্মুখে তুলে ধরেন। কিন্তু এ সকল প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিমাপ নির্ণয় করতে সরকারিভাবে যাচাই করা দরকার বলে বিজ্ঞমহল মনে করছেন। মোল্যাডাঙ্গা ঈদগাহ কমিটির সভাপতি সাবেক সেনা সদস্য জহির উদ্দিন বলেন, আমাকে ৪ টন চাল দেওয়া হয়েছে। চাল বিক্রি করে পেয়েছি ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, ঈদগাহের অর্ধেক আগে ইটের সলিং করা ছিল। পাশে ছিল নিচু জায়গা। যেখানে মাটি কেটে ভরাট করিয়ে ইটের সলিং করা হয়েছে। ঈদগাহটা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে অবহেলিত। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছি ত্যাগের জন্য ভোগের জন্য থেকে। এমপি হেলাল সাহের তদন্ত না করে জনসন্মুখে এভাবে ঠিক হয়েছে কিনা এলাকা লোকজন বিচার করুন। বেশী অনিয়ম হয়েছে কেটলা হাজরাতলা মন্দীর, মোল্যাডাঙ্গা আগারখাল কূল মসজিদ, কেটলা বরই তলা মসজিদ।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন ও অর্থ উত্তোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবকে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব ও ভূমিকা কী ছিল, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং বরাদ্দের অর্থ বিধি অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category