রানা ইসলাম, বদরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরে বদরগঞ্জে অসম প্রেমের জন্য চরম খেসারত দিতে হলো ১৪ বছর বয়সের এক কিশোরের।মেয়েকে ভালবাসার অপরাধে বাড়িতে চুরির মিথ্যা অপবাদে পাষন্ড বাবার মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ছটফট করছেন কিশোর নয়ন চন্দ্র । বাঁচা মরার সন্ধিক্ষণে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। এমন অমানবিক পৈশাচিক ঘটনা ঘটে গত সোমবার ২০ এপ্রিল রাতে উপজেলা কালুপাড়া ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামে ।নির্যাতনের শিকার নয়ন চন্দ্র উপজেলা কালুপাড়া ইউনিয়নের শংকুরপুর মাঝিপাড়া গ্রামের ল্যালভেলু চন্দ্রের ছেলে। এ ঘটনায় কিশোর নয়ন মিয়ার বাবা থানায় অভিযুক্ত মিজানুর ও তার ছেলে শাকিল মিয়ার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী বরাতে জানা গেছে, নয়ন চন্দ্র সনাতনী ধর্মীয় আর কিশোরী মেয়েটি মুসলমান সম্প্রদায়ের।তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ঘটনার দিনে রাতে কিশোরী মেয়েটি প্রেমিক নয়ন চন্দ্রকে বাড়িতে আসতে বলে।নয়ন তার ডাকে কিশোরীর বাসার জানালায় পাশে এসে গল্প করছিল।জানালায় সামনে দুজন কথা বলার সময় বিষয়টি কিশোরীর বাবা মিজানুর চোখে পড়ে। এসময় নয়নকে ডেকে মিজানুর বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। এসময় মিজানুর কুপুত্র শাকিল হাতে রড,পেলাস নিয়ে আসে।এরপর কিশোর নয়নকে সারা শরীরে রড দিয়ে পেটাতে থাকে।একপর্যায়ে নয়নের পায়ের পাতার নিচে সুই দিয়ে ফুটা করে দেয় মিজানুর ও তার ছেলে শাকিল মিয়া।পরে পেলাস দিয়ে হাত ও পায় নখ টানতে থাকে।মধ্যযুগীয় নির্যাতনে সময় নয়ন চিৎকারে আশেপাশে লোক ছুটে এসে দ্রুত বদরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়।অবস্থার অবনতি হলে রংপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন স্হানীয় হাসপাতালে চিকিৎসরা।
বদরগঞ্জ হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক নূরে আশরাফ ছিদ্দিক বলেন, ছেলেটির সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। আর অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি।
স্হানীয়,মুকুল দাস বলেন,এমন নৃশংস অত্যাচার নির্যাতন একজন মানুষকে করতে পারে আমি কখনো দেখিনি আম রা কুলাঙ্গার মিজানুরের বিচার চাই।
হরিদাস নামে আরেক ব্যাক্তি বলেন,আমাদের ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে দেশে আইন আছে।এভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংস হামলা এর নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। আমরা পাষন্ড মিজানুরের বিচার চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মিজানুর আওয়ামী লীগের একজন দোসর ছিলেন।বদরগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপর হামলার মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছিলেন।
অভিযুক্ত মিজানুর সঙ্গে কথা বলার জন্য তার বাসায় গেলে তাকে পাওয়া যায় নি।পরে মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন কথা না বলে ফোন কেটে দেন।
বদরগঞ্জ কালুপাড়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক বলেন,অন্যায় সঙ্গে কোন আপস নেই।
মিজানর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে বলা হয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, এঘটনায় নয়ন চন্দ্র পিতা থানায় লিখিত দায়ের করছেন। ভুক্তভোগী মামলা করতে চাইলে আমরা মামলা গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।