নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আক্রমণাত্মক পোস্ট, গালিগালাজ ও হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রায়হান কবির মিল্টন। তাঁর অভিযোগ, ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পরিবর্তে একটি গোষ্ঠী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ছোট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব বিরূপ মন্তব্যে পিছিয়ে না গিয়ে ইউনিয়নের প্রায় ২৭ হাজার মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন রায়হান কবির মিল্টন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে রায়হান কবির মিল্টন অভিযোগ করেন, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের উৎসাহিত করার পরিবর্তে একটি গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ, কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে ছোট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা বিরূপ মন্তব্যকে প্রাধান্য না দিয়ে ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। ব্যক্তিগত বিরোধ, দলীয় বিভেদ কিংবা প্রতিযোগিতার কারণে যেন জনকল্যাণমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রায়হান কবির মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে থেকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতেছি ভবিষ্যতে ও করবো, যারা আমার পিছনে লাগছেন তারা এসব করে আমাকে পিছিয়ে রাখতে পারবেন না আমি আমার ইউনিয়নের মানুষের জন্য সবসময় কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। লোহানীপাড়া ইউনিয়নে প্রায় ২৭ হাজার মানুষের বসবাস। এসব মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং তাঁদের সেবা নিশ্চিত করা কোনো একক ব্যক্তির দায়িত্ব নয়; বরং ইউনিয়নের উন্নয়নে আগ্রহী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যাঁরা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবেন, তাঁদের একে অপরকে প্রতিপক্ষ কিংবা শত্রু হিসেবে না দেখে আপনজন মনে করা উচিত। প্রতিযোগিতা থাকবে, মতপার্থক্যও থাকতে পারে; কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসম্মানের পর্যায়ে না পৌঁছায়।
তিনি আরও বলেন, “সব ভেদাভেদ ভুলে আমার ইউনিয়নের ২৭ হাজার মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। যাঁরা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবেন, আমরা সবাই একে অপরকে আপনজন মনে করব। ইউনিয়নকে নিজের মনে করে, মানুষের কল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করব। ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা কাউকে ছোট করার মানসিকতা পরিহার করে এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করে রায়হান কবির মিল্টন বলেন, ফেসবুকে মতামত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগ ব্যবহার করে কাউকে অপমান করা, অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গঠনমূলক আলোচনা ও এলাকার সমস্যা তুলে ধরার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। ফেসবুককে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যম না বানিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারে ব্যবহার করা উচিত।
স্থানীয় পর্যায়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা যেন পারস্পরিক শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, ইউনিয়নের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের প্রকৃত পথ হলো মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যা শোনা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানে ভূমিকা রাখা। ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা কটূক্তির পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।