শিরোনাম :
ইসলামী আন্দোলন রংপুর মহানগরের সহ-সভাপতি হলেন মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত ‎বদরগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে ভোটের আগে মাঠ গরম, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু ‎ বদরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় এক যুবককে পিটিয়ে জখম অভিযোগ।  মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে কোডেক এর সংলাপ অনুষ্ঠিত ‎বদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামসহ সংক্রামক রোগ মোকাবেলা বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত  মোরেলগঞ্জে  দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার  পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাজীগঞ্জ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাজীগঞ্জে সরকারি চাল বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ‎হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাদের উপর হামলার প্রতিবাদে বদরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  হবিগঞ্জে সারজিস-পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে রংপুরে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

‎বদরগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে ভোটের আগে মাঠ গরম, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু ‎

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। ঘোষণা হয়নি এখনো নির্বাচনের তফসিল হয়নি দিনক্ষণ ঠিক তারপরও নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ইউনিয়নের হাট-বাজার, চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। এখন পর্যন্ত লোহানীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে কয়েকজনের নাম বেশ জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন নিয়ে মাঠে নামার প্রত্যাশায় রয়েছেন। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্থানীয় কর্মকাণ্ডে তাদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় দৃশ্যমান হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রায়হান কবির মিল্টন, অনাবিল লোহানি জাদু, মোহাম্মদ মামুদুজ্জামান সরকার নিপুল, জারিপ খান, কৈলাস চন্দ্র রায় এবং জাহাঙ্গীর আলম। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ পর্যন্ত এ তালিকায় আরও কয়েকজনের নাম যুক্ত হতে পারে বলেও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

‎স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রায়হান কবির মিল্টন

‎সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা নামগুলোর একটি রায়হান কবির মিল্টন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন রাস্তাঘাটের মেরামতের কাজ, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার, সামাজিক বনায়ন ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। স্থানীয় পর্যায়ে তার বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলে দলীয় পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, পারিবারিক পরিচিতি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নিজস্ব কর্মী-সমর্থক বলয়—এসবই তার নির্বাচনী শক্তির অন্যতম ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে অনাবিল লোহানি জাদুর নাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অনাবিল লোহানি জাদুর নামও জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। এর আগেও তিনি লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় তাকে বিভিন্নভাবে গ্রেফতার মামলা হয়রানি ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে তারপরও তিনি নির্বাচন করেছেন কিন্তু বিজয়ী হতে পারেনি। দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে লোহানীপাড়ার নির্বাচনী সমীকরণে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা। জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা নির্বাচনে তার জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী পরিস্থিতি তার প্রার্থিতার বিষয়টি কতটা নিশ্চিত করে, সেদিকেও নজর রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী

‎লোহানীপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির পক্ষ থেকেও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মামুদুজ্জামান সরকার নিপুল। দলীয় রাজনীতিতে সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নিপুলের নাম চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হলে দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জারিপ খানের নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। একই দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে আসায় শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন বা প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি লোহানীপাড়ার ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিএনপির সম্ভাব্য দুই প্রার্থীকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। দলীয়ভাবে কে সমর্থন পাবেন, কে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন, আর অন্য কেউ স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন কি না—এসব প্রশ্নও ইতোমধ্যে উঠতে শুরু করেছে।

বর্তমান ইউপি সদস্য ও সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কৈলাস চন্দ্র রায়ও আলোচনায়

‎চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য কৈলাস চন্দ্র রায়ের নাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতির কারণে তার প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা চলছে। ইউনিয়নের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকার কারণে একটি অংশের ভোটার ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে তার পরিচিতি রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে লোহানীপাড়ার ভোটের মাঠে নতুন একটি প্রতিদ্বন্দ্বী যোগ হবে।

‎সাবেক চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের নামও আলোচনায়

‎এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের নামও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সেকেন্দার আলীর ছেলে। পারিবারিকভাবে ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও পরিচিতি থাকায় জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তার পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতি নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রার্থী বাড়তে পারে, বদলাতে পারে পুরো সমীকরণ

‎লোহানীপাড়া ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠের বর্তমান চিত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে আরও কয়েকজন নতুন প্রার্থী সামনে আসতে পারেন। নতুন কোনো প্রার্থীর আবির্ভাব হলে বর্তমান হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে। বিশেষ করে শক্তিশালী কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে নামলে দলীয় সমীকরণও নতুনভাবে সাজাতে হতে পারে। আবার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরও নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন ধরনের জোট, সমর্থন বা সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

‎ভোটারদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন—কে হবেন যোগ্য প্রার্থী?

‎সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে কৌতূহল। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান প্রকাশ না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। ভোটারদের কাছে ব্যক্তি ইমেজ, এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সাধারণ মানুষের পাশে কে কতটা ছিলেন, কে এলাকার সমস্যা কতটা বোঝেন এবং নির্বাচিত হলে কী ধরনের কাজ করতে চান—এসব বিষয়ও প্রার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

‎উন্নয়ন ও জনস্বার্থের প্রতিশ্রুতি চাইছেন সাধারণ মানুষ

‎লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা শুধু ভোট চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইউনিয়নের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মসংস্থান, জলাবদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয়ে জনপ্রতিনিধির কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা কী ধরনের পরিকল্পনা দিচ্ছেন, সেটিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অনেক ভোটার মনে করছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে একজন গ্রহণযোগ্য, সৎ, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন। তাই এবারের নির্বাচনে শুধু দলীয় প্রতীক নয়, ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

‎তরুণ ভোটারদের ভূমিকা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ

‎লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণে তরুণ ভোটারদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় নানা কর্মকাণ্ড ও সরাসরি গণসংযোগের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ, নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষার সুযোগ এবং আধুনিক ইউনিয়ন পরিষেবা নিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আশা করছেন। ফলে প্রার্থীরা কতটা বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা দিতে পারেন, সেটিও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে সরব ইউনিয়ন

‎সব মিলিয়ে লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যে উত্তাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর নাম সামনে আসায় নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতা যে বাড়ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রায়হান কবির মিল্টনের সক্রিয়তার আলোচনা, অন্যদিকে জামায়াতের অনাবিল লোহানি জাদুর সম্ভাব্য প্রার্থিতা, বিএনপির নিপুল ও জারিপ খানের নাম, পাশাপাশি কৈলাস চন্দ্র রায় ও জাহাঙ্গীর আলমের মতো সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে লোহানীপাড়ায় নির্বাচনী সমীকরণ ক্রমেই বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে প্রার্থী হচ্ছেন, কে দলীয় সমর্থন পাচ্ছেন, কে স্বতন্ত্রভাবে মাঠে থাকছেন এবং নতুন করে আর কারও নাম যুক্ত হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই নির্বাচনী চিত্র অনেকটা পরিষ্কার হবে।

‎স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,লোহানীপাড়া ইউনিয়নের আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচন হতে পারে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দলীয় সংগঠন, পারিবারিক প্রভাব, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটারদের আস্থা—সবকিছুর সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে কে শেষ হাসি হাসবেন। এখন তাই লোহানীপাড়ার মানুষের চোখ আগামী দিনের দিকে। সময় যত এগোবে, ততই বাড়বে গণসংযোগ, বাড়বে প্রার্থী-সমর্থকদের তৎপরতা, আর স্পষ্ট হবে ইউনিয়নের ভোটের মাঠের আসল চিত্র। শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে জনসমর্থনের পাল্লা ভারী হয়—সেটিই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category