শিরোনাম :
মাউশি রংপুরে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক প্রাকৃতিক জলাশয়, খাল-বিলে পোনা মাছ অবমুক্ত করণ। রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল ১৭ বছরে নির্যাতনের পরও ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম থামেনি: সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ‎ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় নতুন পদক্ষেপ, সিসি ক্যামেরার আওতায় আবু হুরাইরা মাদ্রাসা ফরিদপুরে মধুমতি নদীর ভাঙন ঠেকাতে মানববন্ধন ডুমুরিয়ায় ইউআরসি অফিসার মোসলেম আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ পুশবিরোধী অভিযান: ১০০ কেজি চিংড়ি জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিঘলিয়ায় জমকালো আয়োজনে বন্ধুমহলের ১৬ দলীয় মিনি বারের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত দিঘলিয়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বসতবাড়ির মাত্র ৬ ফুট দূরে ছাদে পোল্ট্রি খামার, দুর্গন্ধ ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১ জনকে কুপিয়ে হত্যা ৩ জন আহত
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

মাউশি রংপুরে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

Reporter Name
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাহমুদুর রহমানকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, যাচাইয়ের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

‎রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কলেজ শাখায় সহকারী পরিচালক পদে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানকে পদায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাকে পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, শিক্ষক ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

‎পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা হান্নান মিয়া ও মাসুদ করিম দাবি করেন, মাহমুদুর রহমান আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সংগঠনটির থানা ও উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পরও তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।তাদের দাবি, মাহমুদুর রহমান পীরগঞ্জের সাবেক পৌর মেয়র শামীমের আত্মীয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে পদায়নের আগে যথাযথ যাচাই করা প্রয়োজন।

‎তারা আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মাহমুদুর রহমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিতর্কিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা কাউকে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারমাইকেল কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাহমুদুর রহমান ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। তাদের অভিযোগ, কারমাইকেল কলেজে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।

‎শিক্ষকদের দাবি, ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি মাউশি রংপুর অঞ্চলে সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক) হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল বলেও তারা দাবি করেন। শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পীরগঞ্জের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ বা সরকারি তদন্তের তথ্য প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, মাউশি রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার এক কর্মকর্তার সঙ্গে মাহমুদুর রহমানের পূর্বপরিচয় রয়েছে। ওই কর্মকর্তা তাকে কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক পদে নিয়ে আসার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও প্রশাসনিক স্বার্থের দিক থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। তারা জানান, মাহমুদুর রহমানের পদায়নসংক্রান্ত ফাইল বর্তমানে ঢাকায় শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে রয়েছে। তাকে পদায়নের আগে তার অতীত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমতিয়াজ ইমতি বলেন, “জেনেশুনে কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। মাহমুদুর রহমানের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে রংপুর মাউশিতে পদায়ন করলে সেটি নেতিবাচক বার্তা দেবে।” মাউশি রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার উপপরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার বলেন, “বিতর্কিত কাউকে রংপুর মাউশির কলেজ শাখায় নিয়োগ দেওয়া হলে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।”

‎মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মাহমুদুর রহমানকে চিনি। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ধরনের নিয়োগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।” এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

‎মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের হোয়াটসঅ্যাপে এ বিষয়ে জানতে এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়। তিনি বার্তাটি দেখলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এ অবস্থায় মাহমুদুর রহমানকে রংপুর মাউশির কলেজ শাখায় সহকারী পরিচালক পদে পদায়নের আগে তার প্রশাসনিক দক্ষতা, অতীত দায়িত্ব পালনের রেকর্ড, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category