শিরোনাম :
ভারতের প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে তদন্তে সিআইডি, বারুইপুরে ঘটনাস্থলে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল খুলনার লবণচরায় বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬ তামিম নামে এক মাদ্রাসার ছাত্র নিখোঁজ ডুমুরিয়ার চুকনগর জিরো পয়েন্ট গোলচত্বরে সড়ক বিভাগের সংস্কার ও নির্মাণ কাজ শুরু: স্বস্তিতে যাত্রী ও চালকরা আলফাডাঙ্গায় যুবসমাজের হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিলেন বিএনপি’র নেতা হাসিব খুলনার রূপসা তেরখাদা দিঘলিয়ার কৃষকদের জন্য চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড কার্যক্রম বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে জামায়াতের আমীর ড,শফিকুর রহমান  ডুমুরিয়ার চুকনগর জিরো পয়েন্ট গোলচত্বরে সড়ক বিভাগের সংস্কার ও নির্মাণ কাজ শুরু: স্বস্তিতে যাত্রী ও চালকরা কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিজিবি, জরুরি ত্রাণ বিতরণ সিলেট কোম্পানীগঞ্জে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা: বিজিবির বাঁধায় শূন্য রেখায় আটকে আছে ৭জন
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন

রংপুরের ‎মিঠাপুকুরে ১৭ ইউনিয়নে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা

Reporter Name
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।।

‎আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একযোগে ১৭ ইউনিয়নের জন্য এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে মিঠাপুকুরে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলা জুড়ে দলটির সাংগঠনিক সক্রিয়তা, ভোটকেন্দ্রিক প্রস্তুতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসংযোগ কার্যক্রম আরও জোরদার হওয়ার আভাস মিলেছে।

‎উপজেলা জামায়াতের আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে এই প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন। ওই ঘোষণার পর থেকেই মিঠাপুকুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয়ভাবে মনে করা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে আগেভাগে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে জামায়াত মূলত সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও নির্বাচনী বার্তা—দুই দিক থেকেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এর ফলে উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

‎দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা, সাংগঠনিক মূল্যায়ন এবং স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যেসব নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই নিজ নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ড, সামাজিক উদ্যোগ, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম কিংবা স্থানীয় জনসম্পৃক্ত নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ফলে মাঠপর্যায়ে তারা পরিচিত মুখ হওয়ায় নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত জনসংযোগ গড়ে তোলা সহজ হবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

‎ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ১ নম্বর খোড়াগাছ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী করা হয়েছে মো. রুহুল আমিন শাহিনকে। ২ নম্বর রানীপুকুর ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম। ৩ নম্বর পায়রাবন্দ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে মো. ফারুক হোসেনের। ৪ নম্বর ভাংনী ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন ওয়াহেদী। ৫ নম্বর বালারহাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করা হয়েছে মো. মাহফুজার রহমান মধুকে। ৬ নম্বর কাফ্রিখাল ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন মাস্টার। ৭ নম্বর লতিবপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম এসেছে মাওলানা মো. মোস্তাফিজার রহমানের। ৮ নম্বর চেংমারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আব্দুল মালেক। ৯ নম্বর ময়েনপুর ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আমিরুল ইসলাম। ১০ নম্বর বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করা হয়েছে হাফেজ ইমরুল হাসান সিদ্দিকীকে। ১১ নম্বর বড়বালা ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মামুনুর রশীদ মামুন। ১২ নম্বর মিলনপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে মাওলানা আব্দুল বাতেনকে। ১৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. নাসিমুল হাসান। ১৪ নম্বর দূর্গাপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন মো. হারুনুর রশীদ বেলাল। ১৫ নম্বর বড় হযরতপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. ফজলুল হক। ১৬ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নে প্রার্থী করা হয়েছে মাওলানা মো. শফিকুল ইসলামকে। আর ১৭ নম্বর ইমাদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে মো. মনোহর বাদশার।

‎স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিঠাপুকুর উপজেলা রংপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন—সব ক্ষেত্রেই এ উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে দলীয় প্রভাব, ব্যক্তি-ইমেজ, স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বড় ভূমিকা রাখে। ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই প্রার্থী ঘোষণা ও মাঠ গোছানোর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে একটি দল যখন একযোগে উপজেলার সব ইউনিয়নের জন্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করে, তখন তা শুধু নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ই নয়; বরং সাংগঠনিক সক্ষমতা, তৃণমূলের সমন্বয় এবং ভোটের আগের বার্তাও বহন করে।

‎মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী ঘোষণার পর দলীয় নেতারা প্রতিটি ইউনিয়নে পৃথকভাবে কর্মীসভা, মতবিনিময়, ভোটার যোগাযোগ, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার, ব্যানার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাও শুরু হয়েছে। দলীয়ভাবে বলা হচ্ছে, ইউনিয়নভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় করে ভোটকেন্দ্রিক প্রস্তুতি, ওয়ার্ডভিত্তিক সমন্বয় এবং ভোটারদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ শক্তিশালী করা হবে।

‎জামায়াতের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ জনপদের সড়ক, স্যানিটেশন, সামাজিক নিরাপত্তা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সনদ প্রদান, সালিশি ভূমিকা, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নসহ নানামুখী জনসেবার সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সৎ, দক্ষ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ সহজ হবে। এই বিবেচনাতেই দলটি আগেভাগে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

‎এ বিষয়ে রংপুর জেলা জামায়াতের আমীর ও রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করে, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে এবং স্থানীয় সরকারকে মানুষের কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করবে। মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে যাদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত। দল তাদের সততা, গ্রহণযোগ্যতা, দায়িত্ববোধ এবং জনসম্পৃক্ততাকে মূল্যায়ন করেই মনোনয়ন দিয়েছে।”

‎তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি গ্রামের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সবচেয়ে কাছের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কাঠামো। এখানকার চেয়ারম্যান ও সদস্যরা যদি যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল হন, তাহলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হন। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমাদের প্রত্যাশা—জনগণ দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর সততা, কর্মদক্ষতা, অতীত ভূমিকা এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাকেও মূল্যায়ন করবেন।”

‎গোলাম রাব্বানী আরও বলেন, “আমরা চাই স্থানীয় সরকার হোক দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, প্রকল্পে দুর্নীতি কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা যেন জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন—কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। মিঠাপুকুরে ঘোষিত প্রার্থীদের আমরা সেই মানদণ্ডেই বেছে নিয়েছি। এখন তারা জনগণের কাছে যাবেন, নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন এবং মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করবেন।”

‎তিনি আরও বলেন, “জামায়াত চায় শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচনী পরিবেশ যদি সুষ্ঠু থাকে, ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং প্রশাসন যদি সবার জন্য সমান আচরণ নিশ্চিত করে, তাহলে জনগণ তাদের প্রকৃত মতামত দিতে পারবেন। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এমন পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যেখানে প্রার্থীরা সমান সুযোগ পাবেন এবং ভোটাররা কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন।”

‎এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, “আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের জন্য চেয়ারম্যান পদে আমাদের দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘ সাংগঠনিক পর্যালোচনা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত, স্থানীয়ভাবে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, তাদের অতীত ভূমিকা, ব্যক্তিগত সততা, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

‎তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি এমন ব্যক্তিদের সামনে আনতে, যারা শুধু দলীয় কর্মী নন, বরং নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত, গ্রহণযোগ্য এবং প্রয়োজনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ান। স্থানীয় সরকার নির্বাচন মানুষের খুব কাছের নির্বাচন। এখানে প্রার্থীকে প্রতিদিন মানুষের সঙ্গে থাকতে হয়, মানুষের সমস্যা শুনতে হয়, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয় এবং উন্নয়ন ও সেবার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হয়। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা স্থানীয় বাস্তবতা ও জনসম্পৃক্ততাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।”

‎আসাদুজ্জামান শিমুল আরও বলেন, “প্রার্থী ঘোষণার পর এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হবে মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত প্রচার-প্রচারণা, ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, ওয়ার্ডভিত্তিক সমন্বয় জোরদার করা এবং প্রতিটি ইউনিয়নের স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে নির্বাচনী পরিকল্পনা তৈরি করা। আমরা চাই, আমাদের প্রার্থীরা জনগণের সামনে তাদের অবস্থান, পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন। নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থাকবেই, কিন্তু আমরা চাই পুরো প্রক্রিয়াটি হোক শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।”

‎তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই মানুষের অনেক মৌলিক নাগরিক সেবা শুরু হয়। তাই এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, সেবামুখী ও দুর্নীতিমুক্ত করা খুবই জরুরি। আমাদের ঘোষিত প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে, স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, সেবার মানোন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

‎উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রার্থী ঘোষণার পর প্রতিটি ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা, কর্মী সমাবেশ, ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন এবং ভোটার সংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে তরুণ ভোটার, নারী ভোটার, প্রথমবারের ভোটার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, ততই ইউনিয়নভিত্তিক নির্বাচনী কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হবে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

‎স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মিঠাপুকুরের ইউনিয়ন রাজনীতিতে ব্যক্তি-প্রভাব, পারিবারিক ভোটব্যাংক, ধর্মীয়-সামাজিক অবস্থান, স্থানীয় উন্নয়নকাজে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে শুধু দলীয় প্রতীক বা পরিচয় নয়, প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। এই বাস্তবতায় জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থীরা কতটা দ্রুত মাঠে সক্রিয় হতে পারেন, সাধারণ ভোটারের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছাতে পারেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর আগাম প্রস্তুতির সঙ্গে কতটা সমন্বয় করে এগোতে পারেন—সেটিই হবে আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।

‎এদিকে একযোগে ১৭ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কবে প্রার্থী ঘোষণা করবে, তারা কাদের মাঠে নামাবে, সম্ভাব্য জোট বা সমঝোতার কোনো চিত্র তৈরি হবে কি না—এসব প্রশ্নও এখন সামনে আসছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই মিঠাপুকুরের ইউনিয়নগুলোতে প্রচার-প্রচারণা, ভোটার যোগাযোগ, সামাজিক-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত একদিকে যেমন তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার সুযোগ পেল, অন্যদিকে ভোটারদের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে পারল যে দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এখন ঘোষিত প্রার্থীদের জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের প্রচারণা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর অবস্থান—সব মিলিয়ে মিঠাপুকুরের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ধীরে ধীরে জমে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category