শিরোনাম :
‎২৪–এর গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী যে রাজনৈতিক দল জালিমে পরিণত হবে সে রাজনৈতিক দলকে আওয়ামী লীগের মত পরিনতি ভোগ করতে হবে: আশরাফুল আলম আশরাফ কেন্দ্রীয় নেতা,গনঅধিকার পরিষদ ‎রংপুরে কালবেলার সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, কোতোয়ালি থানার এসআই ক্লোজড বদরগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ মাদক ব্যবসায়ী ফারুকের বিরুদ্ধে ‎বদরগঞ্জে খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়ম খাদ্য কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ‎ ‎ হাজীগঞ্জে ৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা প্রদীপ রায় ঢাকায়,পুলিশের হাতে আটক  স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু দ্বাদশ গ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিক দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জ বলইবুনিয়ায় কোডেকের সংলাপ অনুষ্ঠিত 
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

‎রংপুরে কালবেলার সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, কোতোয়ালি থানার এসআই ক্লোজড

Reporter Name
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)

‎সাংবাদিকের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও ‘আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ থানায় প্রবেশের নির্দেশ এবং পরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযোগের পর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে কোতোয়ালি থানায় দৈনিক কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও ওই পুলিশ কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে।

‎সাংবাদিকদের অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে চুরির একটি অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসান নামে এক ব্যক্তিকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তিকে গালিগালাজ এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক থানায় যান। কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনি বলেন, থানায় গিয়ে তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় দেন এবং পরে ভিজিটিং কার্ডও দেন। এ সময় এসআই নিহার রঞ্জন তাকে বসতে বলেন। তবে থানায় ডেকে আনা ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গালিগালাজ ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার আইডি কার্ড দেখতে চান।

‎রেজওয়ান রনির ভাষ্য, তিনি ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও সেটি না দেখে তাকে আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশের কথা বলা হয়। তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানার ওসি তাকে চেনেন এবং প্রয়োজনে ওসির সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই নিহার রঞ্জন বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।’ এরপর এসআই নিহার রঞ্জন উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং আইডি কার্ড নিয়ে থানায় আসতে বলেন বলে অভিযোগ করেন রেজওয়ান রনি। পরে তিনি বিষয়টি সহকর্মীদের জানালে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় যান। তাদের সঙ্গেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা উচ্চস্বরে কথা বলে কক্ষ থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ।

‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, থানায় একজন ব্যক্তিকে এনে এসআই নিহার রঞ্জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন বলে তারা দেখতে পান। এ বিষয়ে জানতে থানায় গেলে রেজওয়ান রনি নিজের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি ভিজিটিং কার্ড দেন। এরপরও তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশের কথা বলা হয়। পরে অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল একেএম সুমন মিয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গেলে এসআই নিহার রঞ্জন জানান, আইডি কার্ড ছাড়া সাংবাদিকেরা থানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এ সময় তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয় এবং তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনিক সিং বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করছিলেন। সাংবাদিকরা তাকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাদের কথা শুনতে চাননি। একপর্যায়ে তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে সাংবাদিকদের বারবার কক্ষ থেকে বের করে দেন।এদিকে, থানায় ডেকে আনা সাব্বির হাসানের অভিযোগ, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গালিগালাজ করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়েই সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্‌বিতণ্ডার সূত্রপাত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

‎ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাজমুল কাদের বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠার পর এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি (চলতি দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত) দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের পেশাদার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার মধ্যেই এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণ, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক এবং থানায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category