নিজস্ব প্রতিনিধি চাঁদপুর: চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির সুযোগে সড়কের দুই পাশের ১০টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন (সেলিম)-এর দিকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহরাস্তি পৌরসভার সাহাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের সড়কের দুই পাশের সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো গাছগুলো ঈদের ছুটির মধ্যে কেটে ফেলা হয়। পরে ওই কাঠ স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ আলমসহ একাধিক ব্যক্তি এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
গাছ কেনার বিষয়টি স্বীকার করে ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দার বলেন, “সরকারি রাস্তার পাশের গাছ হওয়ায় আমি কিনতে চাইনি। পরে আমাকে বলা হয় গাছ কিনতে। তখন সেলিম ভাই, ইমাম মাস্টারসহ আরও কয়েকজন বলেন, ‘তুমি গাছ কিনো, সব ঝামেলা আমরা সমাধান করব।’ এরপর আমি গাছ কিনেছি।”
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়কের এসব গাছ কাটার বিষয়ে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন কিংবা বন বিভাগের কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম বলেন, “সড়কটি আমি পৌরসভা থেকে লিজ নিয়েছি। আমি প্রায় ৩০টি গাছের চারা রোপণ করেছি। গাছগুলো মসজিদে দান করা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ গাছ কেটে নিয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে শাহরাস্তি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা বন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “সড়কের গাছ কাটার জন্য উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। তবে ওই সড়কের গাছ কাটার কোনো আবেদন আমাদের কাছে আসেনি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।”
তিনি বলেন, “ব্যক্তি উদ্যোগে সড়কে গাছ লাগানো হলেও অনুমতি ছাড়া কেউ তা কাটতে পারে না। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শাহরাস্তির সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা বলেন, “গাছ কাটার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বন কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকায় পরে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, “গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি অবগত হয়েছি। বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরকারি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত সড়কের গাছ ঈদের ছুটির মধ্যে কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।