নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
একাত্তর টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো প্রধান এবং রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহ বায়েজিদ আহমেদের শ্রদ্ধেয় মাতা কোহিনুর বেগম (৯০)-এর ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর। তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, সাংবাদিক সমাজ, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরের আমির এটিএম আজম খান এবং সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল এক যৌথ শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কোহিনুর বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও মঙ্গলবার সকাল ৭টায় তিনি হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
মরহুমা নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া ঘনপাড়া গ্রামের মরহুম মাওলানা নুরুল হক শাহের সহধর্মিণী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী, ধর্মপরায়ণ, পরহেজগার, সৎচরিত্র ও মানবিক গুণাবলির অধিকারী নারী। দীর্ঘ জীবনে তিনি ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং পারিবারিক আদর্শকে ধারণ করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। তাঁর স্নেহ, মমতা, ত্যাগ ও নৈতিক শিক্ষায় পরিবার আজও অনুপ্রাণিত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় শূন্যতা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে , মঙ্গলবার বাদ আসর তাঁর স্বামীর ভিটায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী, সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছে।
যৌথ শোকবার্তায় মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বলেন, “একজন মমতাময়ী মা ও নেককার নারীর বিদায়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের সকল নেক আমল কবুল করুন, ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।”
তারা আরও বলেন, “পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে তার নেক আমল। আমরা বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতের মাধ্যমে মরহুমাকে ক্ষমা করবেন এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন।”
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, একজন মায়ের মৃত্যু কোনো পরিবারের জন্যই সহজ নয়। মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা, দোয়া ও ত্যাগের বিকল্প পৃথিবীতে আর কিছুই হতে পারে না। তাই এই কঠিন সময়ে পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি শোকসন্তপ্ত সন্তানদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন এবং এই শোককে ধৈর্য ও ঈমানের সঙ্গে বহন করার শক্তি দেন।
শোকবার্তায় বলা হয়, “মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুমার কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগানে পরিণত করেন, কবরের আযাব থেকে হেফাজত করেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁকে নেককার বান্দাদের সঙ্গে হাশর করেন।”
রংপুর মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ একই সঙ্গে সাংবাদিক শাহ বায়েজিদ আহমেদ, তাঁর ভাই-বোন, সন্তান-সন্ততি ও স্বজনদের উদ্দেশে গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “এই শোক শুধু আপনাদের নয়, আমাদেরও। আমরা আপনাদের এই দুঃসময়ে পাশে আছি এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আপনাদের ধৈর্য, সবর ও দৃঢ় ঈমানের সঙ্গে এই শোক অতিক্রম করার তাওফিক দান করেন।”
এদিকে কোহিনুর বেগমের ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক শোকবার্তা প্রদান করেছেন। তাঁরা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বিশেষ করে সাংবাদিক শাহ বায়েজিদ আহমেদের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের কারণে তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যেও গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোহিনুর বেগম ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, ধর্মভীরু ও সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন সম্মানিত নারী। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা এবং ইসলামী আদর্শে পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী একজন শ্রদ্ধেয় মাতৃমূর্তিকে হারালো।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরাও বলেন, একজন নেককার মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার রেখে যাওয়া সৎকর্ম ও নেক সন্তান। মরহুমা কোহিনুর বেগমের জন্য সবাই যেন আন্তরিকভাবে দোয়া করেন—মহান আল্লাহ যেন তাঁকে ক্ষমা করেন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।