নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগরের সহ-সভাপতি মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাঁর বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে ঘায়েল করতে একটি পক্ষ অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছে। তবে এসবের জবাবে পাল্টা কোনো আয়োজন কিংবা প্রতিহিংসার পথ বেছে না নিয়ে তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা করে নীরবতা, দরুদ ও ইস্তেগফারকে নিজের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টের শুরুতেই মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত লেখেন, “আমার সঙ্গে যারা দুশমনি করেন তাদের জন্য এই নোটিশ আমার পক্ষ থেকে।” এরপর তিনি তাঁর বিরোধিতাকারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি বলেন, মানুষ যখন তাঁর বিরোধিতায় মেতে ওঠে, তখন তাঁকে পরাস্ত করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের বিশাল জাল’ বোনা শুরু হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে তাঁর বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা করা হয়। এমনকি বিভিন্ন মানুষের কাছে গিয়ে কানকথা ছড়ানো এবং চায়ের আড্ডা কিংবা আপ্যায়নের আড়ালে তাঁকে নিয়ে নিন্দা-সমালোচনার আসর বসানোর অভিযোগও করেন তিনি।
মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত লিখেছেন, এসব কর্মকাণ্ডের বিপরীতে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা আয়োজন নেই। তাঁর দাবি, তাঁর হাতে অঢেল অর্থ, বাহুবল কিংবা কোনো ধরনের ক্ষমতার প্রভাব নেই। তবে তাঁর কাছে রয়েছে একটি অমূল্য হাতিয়ার— দরুদ ও ইস্তেগফার।
তিনি আরও লেখেন, চারপাশে আক্রোশ, বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র থাকলেও তিনি পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে নীরবতাকে বেছে নেন। তাঁর ভাষায়, চরম নীরবতায় সব আঘাত ও অবিচার নিজের মধ্যে ধারণ করে তিনি ইস্তেগফার ও দরুদের প্রশান্তিতে নিজেকে নিমগ্ন রাখেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আল্লাহর ওপর নিজের আস্থা ও তাওয়াক্কুলের কথা তুলে ধরে বলেন, জাগতিক নানা ষড়যন্ত্র যত বড়ই হোক না কেন, মহান আল্লাহ চাইলে তা মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে দিতে পারেন। জীবনের দুঃখ-কষ্ট, বেদনা ও প্রতিকূলতার সময়ে আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থাকেই তিনি নিজের হৃদয়ের প্রশান্তির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।
মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিতের ভাষ্য, অর্থ, ক্ষমতা কিংবা প্রভাব দিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে চাপে ফেলা সম্ভব হলেও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থাকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। তাই বিরোধিতা ও সমালোচনার জবাবে তিনি প্রতিশোধ বা পাল্টা অপপ্রচারের পথ অনুসরণ না করে ধৈর্য ও আত্মসংযমের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তাঁর পোস্টে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি একটি বিশেষ মন্তব্যও যুক্ত করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “দুশমনগুলো আশেপাশেই ঘোরে, সামনে আসলে হুজুর হুজুর আর পিছনে দুশমনি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তাঁর আশপাশের কিছু মানুষের দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগরের সহ-সভাপতি মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত বলেন, তাঁর পোস্টটি মূলত বিরোধিতা, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিপরীতে তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান তুলে ধরার একটি বক্তব্য। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক জীবনে মতপার্থক্য ও সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে হেয় করা, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো কিংবা আড়ালে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা কোনোভাবেই ইতিবাচক রাজনীতির অংশ হতে পারে না।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কে কী বলল, কে কী পরিকল্পনা করল—এসব নিয়ে আমি প্রতিনিয়ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে চাই না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, মানুষের শক্তির চেয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা অনেক বড় শক্তি। আমি আমার অবস্থান থেকে ধৈর্য ধারণ করতে চাই এবং দরুদ ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যদি কারও কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকে, তাহলে তা প্রকাশ্যে যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা উচিত। আড়ালে কানকথা, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে কাউকে হেয় করার চেষ্টা সমাজ ও রাজনীতির পরিবেশকে আরও বিভক্ত করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত বলেন, “আমি কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা চাই না। কেউ আমার সমালোচনা করলে আমি তার জবাব যুক্তি দিয়ে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কেউ যদি আড়ালে থেকে অপপ্রচার চালায়, তার প্রতিটি কথার জবাব দেওয়া আমার কাজ নয়। আমার কাজ হলো নিজের অবস্থানে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা।”
তিনি আরও বলেন, জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূলতা আসবে, বিরোধিতা থাকবে, ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য, আত্মসংযম ও নৈতিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত। তাঁর মতে, মানুষের সাময়িক প্রশংসা কিংবা বিরোধিতা নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই একজন মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ফেসবুক পোস্টে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের মধ্যেও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ পোস্টে ব্যবহৃত ‘দুশমনি’, ‘ষড়যন্ত্র’ ও ‘কানকথা ছড়ানোর’ অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে তাঁর পোস্টে নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সক্রিয় মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিতের এই পোস্টকে ঘিরে রংপুরের ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হিসেবে উঠে এসেছে—বিরোধিতা ও প্রতিকূলতার জবাব প্রতিশোধের মাধ্যমে নয়; বরং ধৈর্য, আত্মসংযম, নৈতিক অবস্থান এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করা।
তবে পোস্টে উত্থাপিত ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার কিংবা বিরোধিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।