শিরোনাম :
দ্বাদশ গ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিক দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জ বলইবুনিয়ায় কোডেকের সংলাপ অনুষ্ঠিত  মোরেলগঞ্জের খাউলিয়ায় কোডেকের সংলাপ অনুষ্ঠিত সবুজের আড়ালে কৃষকের চোখের জল: ডুমুরিয়ায় সিন্ডিকেটের জালে পিষ্ট সবজিচাষিরা ডুমুরিয়ার টিপনা আদর্শ গ্রামে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্মকর্তাদের স্থান পরিদর্শন ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য বহু ষড়যন্ত্র করেছে। গোলাম পরওয়ার. বদরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।  বিসিএস ক্যাডার হতে চায় গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থী আলিফ ‎বদরগঞ্জে খাদ্যশস্য সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ: খাদ্য কর্মকর্তা, ওসিএলএসডি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন মামলার দফাওয়ারি জবাব না দেওয়ার অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু ক্ষতিপূরণের অর্থ অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এন. এম. ঈসা

Reporter Name
Update : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

ইবি ডেস্ক: সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এবং Newcastle Remittance Warriors Parliament পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা এবং সদস্য সচিব এম. এ. রউফ নিহত শ্রমিকদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন:
“আমরা মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন নিহত ভাইদের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।”
একই সঙ্গে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা নিহত শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন, চাকরিজনিত পাওনা, বীমা বা সামাজিক বীমার অর্থ এবং অন্যান্য প্রাপ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিলম্ব, গোপনীয়তা, কমিশন বাণিজ্য বা তছরুপ যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সৌদি আইনে কর্মস্থলজনিত দুর্ঘটনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়
সৌদি আরবের General Organization for Social Insurance (GOSI)-এর Occupational Hazards ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরবে সংঘটিত কর্মসংস্থানজনিত আঘাত ও দুর্ঘটনা নির্দিষ্ট শর্তে সামাজিক বীমা সুবিধার আওতায় পড়ে। কোনো শ্রমিকের মৃত্যু যদি যথাযথ তদন্তে কর্মস্থলজনিত দুর্ঘটনা বা occupational injury হিসেবে স্বীকৃত হয় এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক বীমা বিধান প্রযোজ্য হয়, তাহলে তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীরা প্রযোজ্য সুবিধা বা ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শ্রমবিধির ব্যাখ্যাতেও কর্মস্থলে আহত শ্রমিকের চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বহনের বিষয়ে নিয়োগকর্তার দায়িত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও কার কাছ থেকে কোন অর্থ পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করতে পারে দুর্ঘটনার সরকারি শ্রেণিবিন্যাস, শ্রমিকের GOSI নিবন্ধন, চাকরির রেকর্ড, নিয়োগ চুক্তি, বকেয়া পাওনা এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর। তাই কোনো মধ্যস্থতাকারীর মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নথি ও বৈধ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি দাবি নিষ্পত্তি করা জরুরি।
অ্যাডভোকেট ঈসার পাঁচ দফা আইনি দাবি
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, নিহত প্রতিটি শ্রমিকের ক্ষেত্রে অবিলম্বে—
১. অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
২. প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের চাকরির কাগজপত্র, GOSI/বীমা নিবন্ধন, বেতন, বকেয়া পাওনা এবং অন্যান্য আর্থিক অধিকার পৃথকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
৩. ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য পাওনা সরাসরি বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত পদ্ধতিতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. কোনো দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী, ব্যক্তি বা অসাধু চক্র যাতে ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে কমিশন, ভাগ বা অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
৫. প্রতিটি পরিবারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে তাদের প্রাপ্য অর্থের উৎস, মোট পরিমাণ, দাবি নম্বর, মামলার অবস্থা এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশ দূতাবাসকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান
বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের শ্রম উইং মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ দাবি ও শরিয়াহ আদালতের প্রক্রিয়ায় সহায়তার ব্যবস্থা রাখে। দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বৈধ উত্তরাধিকারীদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তিতেও দূতাবাস ভূমিকা পালন করে।
তাই অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বাংলাদেশ সরকার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাসকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য আলাদা কেস ফাইল খোলার এবং দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন:
“একজন প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তাঁর পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বনটিই হারিয়ে যায়। সেই অসহায় পরিবারের আইনগত পাওনা নিয়ে যদি কেউ ষড়যন্ত্র করে, অর্থ আত্মসাৎ করে বা অযথা বিলম্ব ঘটায়, তাহলে সেটি শুধু আর্থিক অন্যায় নয়, মানবিকতার বিরুদ্ধেও গুরুতর অপরাধ। নিহত শ্রমিকের প্রতিটি প্রাপ্য টাকা তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীর হাতে পৌঁছাতে হবে।”
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ মনে করে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারের আইনগত অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category