দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ বাল্যবিবাহ ও নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও ব্যাপক জনসচেতনতা। কোনো পরিবার যাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে দিতে না পারে এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা যাতে আড়ালে না থাকে, সেজন্য পরিবার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত।
খুলনার দিঘলিয়ায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, বাল্যবিবাহ একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে রোধে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। উঠান বৈঠকে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য গুরুতর সমস্যা। এসব প্রতিরোধে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানাতে হবে। একইভাবে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটলে নীরব না থেকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম, দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাও সানওয়ার হুসাইন, উপজেলা প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নবনীতা দত্ত, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামাল হুসাইন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার আইচ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মোনায়েম খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার পুষ্পেন্দু দাশ এবং একাডেমিক সুপারভাইজার মাকসুদা খানম। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নারী নেত্রী, মহিলা বিষয়ক দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।