বেনজীর আহমেদ মুকুল দিঘলিয়া প্রতিনিধি /আন্তর্জাতিক ডেস্ক খেলার মাঠ মানেই প্রতিযোগিতা, আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই মাঠেই যদি কোনো বন্যপ্রাণী নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেয়, তখন মানুষের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত? অস্ট্রেলিয়ার একটি ফুটবল মাঠে পাখির ডিম পাওয়ার ঘটনাটি এ প্রশ্নের সামনে নতুন করে দাঁড় করিয়েছে বিশ্বকে। খেলাধুলার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও একটি পাখির ডিম রক্ষায় মাঠ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার কাছাকাছি জেরাবম্বেরা রিজিওনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সের কৃত্রিম ঘাসের ফুটবল মাঠের মাঝখানে একটি প্লোভার পাখির ডিম পাওয়া যায়। নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে এসে ডিমটি দেখতে পান খেলোয়াড়েরা। পরে তাদের পাশের মাঠে খেলার ব্যবস্থা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় কাউন্সিল বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সংস্থা ওয়াইল্ডকেয়ারের (Wildcare) পরামর্শ নিয়ে মাঠটি সর্বোচ্চ ২৮ দিন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করে। কারণ, ডিমটি ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। ডিমটি সরানোর প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার কথাও জানায় কর্তৃপক্ষ।
প্লোভার পাখি ডিম ও বাচ্চা রক্ষার সময় অত্যন্ত সতর্ক হয়ে ওঠে। বাসার আশপাশে মানুষের উপস্থিতি টের পেলে তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। তাই ডিমটির নিরাপত্তার পাশাপাশি খেলোয়াড় ও দর্শকদের সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ঘটনাটির বিশেষত্ব শুধু একটি ডিমের জন্য মাঠ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে নয়; বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের মানসিকতায়। মাঠটি মানুষের খেলাধুলার জন্য তৈরি হলেও সেখানে একটি বন্যপ্রাণীর প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ সেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা না করে বিকল্প মাঠে খেলা ও অনুশীলনের ব্যবস্থা করে।
বাংলাদেশের জন্যও রয়েছে শিক্ষণীয় দিক
বাংলাদেশে নগরায়ণ, আবাসন সম্প্রসারণ, জলাভূমি ভরাট এবং গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে অনেক বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। পাখির বাসা, ডিম কিংবা বাচ্চা অনেক সময় মানুষের অসচেতনতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খেলার মাঠ, পার্ক কিংবা খোলা জায়গায় পাখির বাসা বা ডিম চোখে পড়লে তা নষ্ট করা কিংবা নিজের সিদ্ধান্তে সরিয়ে ফেলার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন চাইলে খেলাধুলার সঙ্গে প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয়টিও যুক্ত করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়ন ও বিনোদনের পাশাপাশি প্রকৃতির জন্যও জায়গা রাখা প্রয়োজন। মানুষের প্রয়োজন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যান্য প্রাণীর বেঁচে থাকা ও বংশবিস্তারের অধিকারও পরিবেশের ভারসাম্যের অংশ।
একটি ডিম হয়তো দেখতে খুবই ছোট। কিন্তু সেটিকে নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তাৎপর্য অনেক বড়। প্রকৃতির প্রতি এমন দায়িত্বশীলতা ছড়িয়ে পড়লে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান আরও সুন্দর ও নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় কাউন্সিলের তথ্য এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।