রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
প্রধানমন্ত্রীর ডাকা গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে অংশ নিতে ঢাকায় গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং লোহানীপাড়া ইউনিয়নের দফাদার জামশেদ আলী (৪৮)। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের প্রবেশপথে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগমুহূর্তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জামশেদ আলীর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী এবং নিজ এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়া মানুষটি আর জীবিত ফিরে আসবেন না—এমন খবর মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও পরিচিতজনেরা।
পরিবারের সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের গ্রাম পুলিশের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মহাসমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে মোট ৮৪ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৫ নং লোহানীপাড়া ইউনিয়নের দফাদার জামশেদ আলীও।
নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার সকালে তাঁরা জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রবেশপথের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জামশেদ আলী। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় আশপাশে থাকা অন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত বিমান বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
জামশেদ আলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকায় অবস্থানরত বদরগঞ্জের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোক ও হতাশা দেখা দেয়। সহকর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত হন। যে মহাসমাবেশে অংশ নিতে একসঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন, সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই একজন সহকর্মীকে হারাতে হবে—এমনটি কেউ কল্পনাও করেননি।
অন্যদিকে, বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউনিয়নে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালন করা জামশেদ আলীর এমন আকস্মিক চলে যাওয়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিজ এলাকা ছেড়ে রাজধানীতে যাওয়া জামশেদ আলীর এই মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, সহকর্মীদের কাছেও এক অপূরণীয় বেদনার ঘটনা হয়ে থাকবে। মহাসমাবেশে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর ফেরা হলো নিথর দেহে। এদিকে, তাঁর মরদেহ বদরগঞ্জে নিয়ে আসা এবং দাফনসংক্রান্ত পরবর্তী প্রস্তুতির বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পযন্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডাকা গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে সেখানে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়। লাশ নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে আমি সেখানে যাব,এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করব।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর ডাকা গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে অসুস্থ হয় সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় লাশ ফ্রিজিং গাড়িতে রওনা দিয়েছে। সম্ভবত বগুড়ার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। তার গ্রামের বাড়িতে আমি গিয়েছিলাম তার পরিবারের খোঁজখবর নিতে। তার যে ছেলে আছে সরকারের পক্ষ থেকে যা সহযোগিতা করার প্রয়োজন আমরা তা করব। আগামীকাল সকাল দশটায় তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার লাশ দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।