রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় যুবশক্তি, রংপুর জেলা ও মহানগর শাখা।
রোববার (১২ অক্টোবর) রংপুর প্রেসক্লাব চত্বর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
যুবশক্তির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ; প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন; জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা; নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা; ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে জাতীয় যুবশক্তির রংপুর জেলার মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, “আমাদের সন্দেহ হয়, এবার হয়তো ভাগ-বাঁটোয়ারায় গন্ডগোল লেগেছিল। এ জন্য কেউ না কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছে। অন্যথা ঘটনাটি সামনে আসত না।”
রংপুর মহানগর যুবশক্তির আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান বলেন, বিএনপি সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার এক কোটি চাঁদাবাজ তৈরি করেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি থাকলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সচল করতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রংপুর জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান তৌফিক বলেন, চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে তরুণদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না হলে তরুণদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রংপুর জেলা যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব লিমন মিয়া বলেন, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য পরীক্ষার আগের রাতেই জানাজানি হয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রংপুর মহানগর যুবশক্তির সদস্য সচিব জীবন চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিএনপি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হওয়ার চেষ্টা করছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে, রংপুর মহানগর যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক মুহিদ হাসান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে পাওয়া তথ্য তাঁদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও বিস্তৃত অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বেকারত্ব নিরসন, যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে নিয়োগব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।