রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় যমুনেশ্বরী নদীর তীরভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে তীর সংরক্ষণ ও আশপাশের বসতবাড়ি রক্ষায় নেওয়া হয়েছে ৯২ লাখ টাকার প্রকল্প। ৯৫ মিটার এলাকায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রবি এন্টারপ্রাইজ। জরুরি ভিত্তিতে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাজ চলমান আছে। নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নদীর তীর সংরক্ষণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কাজটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সুরক্ষিত হলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনেশ্বরী নদীর তীরভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ৯৫ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় রবি এন্টারপ্রাইজকে। এ কাজের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত স্থানে জিওব্যাগ স্থাপনের মাধ্যমে নদীর তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নদীর তীরভাঙন রোধে এ ধরনের প্রকল্প স্থানীয় অবকাঠামো ও বসতবাড়ি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এ কারণে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা এবং প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রবি এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার লিমন মিয়া বলেন, ‘কাজ খুব সুন্দরভাবে হচ্ছে। এখানে দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো চিত্র নেই। সরকারি পরিকল্পনায় যেভাবে কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে, সেভাবেই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। নদীর তীর সংরক্ষণে কাজটি সম্পন্ন হলে এর সুফল স্থানীয় মানুষ পাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
কাজের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কাজ সুন্দরভাবে পরিচালনা করছি। সব মিলিয়ে কাজ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’ নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি ও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, কাজের গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হলে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।
এদিকে নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং এ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন, ‘এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত না,বালু উত্তোলন করা হয়েছে নদীর বাঁধ রক্ষার কাজের জন্য এটাই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি পক্ষ প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে এগিয়ে নিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যমুনেশ্বরী নদীর তীর সংরক্ষণে নেওয়া এ প্রকল্পকে স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত নকশা, কারিগরি নির্দেশনা ও গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হলে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও অবকাঠামো রক্ষায় তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নদী থেকে বালু উত্তোলনের পদ্ধতি ও কাজের মান যথাযথভাবে তদারকি করা হলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করা সহজ হবে।