শিরোনাম :
গনতন্ত্রের রাজকন্যার জন্ম শহীদ জিয়ার গড়া বিএনপিতে এই দলেই গনতন্ত্র সুরক্ষা ড.কাজী মনির বদরগঞ্জে ১৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, জব্দ মোটরসাইকেল খুলনার বটিয়াঘাটার মেয়ে বেদবতী মিস্ত্রী মহম্মদপুরে নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) হিসেবে যোগদান  মোরেলগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে  জামায়াতের স্বারকলিপি ইউএন ও ওসির দপ্তরে মোরেলগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু মোরেলগঞ্জে জিয়া মঞ্চের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও দোয়া অনুষ্ঠান  মেয়াদ শেষের ৮ বছর পরও বহাল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ‎মিঠাপুকুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি ‎ ‎ হাজীগঞ্জে সম্পত্তির দাবিতে দাদী শাশুড়ির লাশ দাফন আটকে দিলেন নাতিন জামাই রূপসার মিল্কী দেয়াড়ায় মরহুম মোঃ লাবু শেখের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

‎মিঠাপুকুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি ‎ ‎

Reporter Name
Update : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার অধীনে ১১ নং বড়বালা ইউনিয়ন শাখার বাইতুলমাল সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান সেলিমকে সংগঠনের সকল ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। সংগঠনের আনুগত্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। গত ৬ জুন জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পত্রে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আসাদুজ্জামান শিমুল স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রতি যথাযথ আনুগত্য প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান সেলিমকে সংগঠনের সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ‎ ‎চিঠিতে আরও বলা হয়, একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠনের শক্তি ও সফলতার মূল ভিত্তি হচ্ছে শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য। কোনো ব্যক্তি বা নেতা যদি সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হন কিংবা গঠনতন্ত্র ও নির্দেশনার বাইরে অবস্থান গ্রহণ করেন, তাহলে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।অব্যাহতির চিঠিতে সংশ্লিষ্ট নেতার প্রতি ইসলামী আদর্শ ও দ্বীনের সঠিক বুঝ অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং সংশোধনের মাধ্যমে তিনি যেন সঠিক পথে ফিরে আসতে পারেন, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। ‎ ‎জানা গেছে, মো. কামরুজ্জামান সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বড়বালা ইউনিয়ন জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে সম্প্রতি তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নজরে এলে সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পরবর্তীতে অভিযোগের সত্যতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন বিবেচনা করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে থাকে। কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী সংগঠনের নীতিমালা লঙ্ঘন করলে বা অনুমোদিত সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নিলে সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মীদের মধ্যে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

‎এদিকে অব্যাহতির এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সংগঠন ভবিষ্যতে আরও কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান গ্রহণের বার্তা দিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহতির পত্রের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ফলে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্তটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

‎ ‎এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ও শৃঙ্খলাভিত্তিক সংগঠন। সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রত্যেক সদস্য ও দায়িত্বশীলের জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি যদি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হন বা সংগঠনের সিদ্ধান্ত অমান্য করেন, তাহলে সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মো. কামরুজ্জামান সেলিমের ক্ষেত্রেও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। সংগঠনের স্বার্থ, আদর্শিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক বুঝ অর্জন করে নিজেকে সংশোধন করবেন। জামায়াতে ইসলামী সব সময় শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও সাংগঠনিক নিয়ম-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। সংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে গঠনতন্ত্র ও সিদ্ধান্তের আলোকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজন অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, জেলা জামায়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা জামায়াত সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ‎


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category