নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
রংপুরের তারাগঞ্জে অনুমতি ও সম্মতি ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে সংগঠনটির সব পদ-পদবি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মো. তাসিন খান সুমন। তিনি উপজেলার ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তারাগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তাসিন খান সুমন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার অনুমতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে জড়ানো হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তাসিন খান সুমন বলেন, ৫ আগস্টের আগ থেকেই তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না। এরপরও গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে জানতে পারেন, সম্প্রতি ঘোষিত রংপুর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর তিনি বিস্মিত হন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সম্মতি না নিয়েই জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তার নাম রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজে এবং তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে তাসিন খান সুমন বলেন, ‘আজ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি ছাত্রলীগের সকল রাজনৈতিক পদ-পদবি এবং আওয়ামী লীগের সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে পদত্যাগ করলাম। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও কোনো অপপ্রচার চালানো হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে। আমি কোনোভাবেই এর দায়ভার বহন করব না।’ তিনি বলেন, নিজের অজ্ঞাতসারে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলে তার দায় তার ওপর বর্তাতে পারে না। তাই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি ছাত্রলীগের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্কেরও ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে তাসিন খান সুমনের বড় ভাই মোনায়েম খান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমার ছোট ভাইকে ভুল বুঝিয়ে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। সে বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রলীগের সব পদ-পদবি ও কর্মকাণ্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এখন সে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।’ মোনায়েম খান আরও দাবি করেন, তাসিনকে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে সে নিজেই সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তাসিন খান সুমন আরও বলেন, বর্তমানে ছাত্রলীগের কোনো পদ-পদবির সঙ্গে তিনি যুক্ত নন এবং আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা নেই। ভবিষ্যতে তার নাম ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, প্রচার-প্রচারণা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের বক্তব্য বা পোস্ট দেওয়া হলে তার দায়ভার তিনি নেবেন না। তার পদত্যাগের ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একজন ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না এবং কীভাবে তা করা হলো এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন রংপুর জেলা ছাত্রলীগের কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা এই মূহুর্তে পালিয়ে থাকায়। সংবাদ সম্মেলনে তাসিন খান সুমন পুনর্ব্যক্ত করেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করতেই তিনি প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার নাম কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আগে তার সম্মতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।