শিরোনাম :
সার ডিলার নিয়োগে বিতর্ক, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবের শঙ্কা ‎ বটিয়াঘাটায় সদ্য যোগদান কৃত এসিল্যান্ডের তেঁতুলতলা সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন ‎ফেরদৌস জয়ের নেতৃত্বে রংপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা  ‎ প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রংপুরে যুবশক্তির বিক্ষোভ, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি ‎আওয়ামী লীগ নেতার জামিন কাণ্ডে রংপুরের সেই ওসিকে সিলেট রেঞ্জে বদলি ‎মন্ত্রীর ‘ডিও লেটারে’ রংপুরের প্রকল্প লালমনিরহাটে নেওয়ার প্রস্তাব,ক্ষোভ মিথ্যাচারের প্রতিবাদে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতির সংবাদ সম্মেলন দিঘলিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় বরফ কল দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ! ঢাকায় চাকরিজীবী ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি বনে যাওয়া নেতার কাণ্ড দিঘলিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ ও প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

সার ডিলার নিয়োগে বিতর্ক, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবের শঙ্কা ‎

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভ-বিভক্তি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি

‎রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)

‎সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং আর্থিক লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। বিশেষ করে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করছেন।

‎

‎সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট এই বিতর্কের প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পেশাদার ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। দলীয় কোন্দল বাড়ার পাশাপাশি ভোটের মাঠে বিরোধীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

‎

‎নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় পর্যায়ে বাড়ছে আলোচনা-সমালোচনা। কোথাও নতুন ট্রেড লাইসেন্সধারীদের ডিলারশিপ দেওয়া, কোথাও রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ এবং কোথাও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

‎

‎নির্বাচনের মাঠে পড়তে পারে নিয়োগ বিতর্কের প্রভাব

‎স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা, সাংগঠনিক ঐক্য এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে বিবেচনায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে সৃষ্ট অসন্তোষ দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

‎

‎অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে প্রভাবশালী নেতাদের পছন্দের ব্যক্তি ও স্বজনদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের একটি অংশ নির্বাচনী কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারেন। কোথাও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অনীহা, কোথাও অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং কোথাও বিদ্রোহী অবস্থান তৈরির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

‎

‎তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অভিযোগের নিষ্পত্তি, দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

‎

‎অন্যদিকে, সারের মতো কৃষি উপকরণ নিয়ে বিতর্ক সাধারণ ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষিনির্ভর এলাকায় সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বদলে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে এ বিষয়টি তখন বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

‎

বদরগঞ্জে ডিলার তালিকা ঘিরে বিএনপিতে অস্বস্তি

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, পেশাদার সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে দলটির কয়েকজন নেতা, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

‎

‎১১ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমোদিত ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়। প্রকাশিত তালিকায় বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নয়টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ।

‎

‎বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুল হক অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে নতুন করে সার ডিলারশিপ পেলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হলে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

‎

‎উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুজ্জামান সরকার নিপুল ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

‎

‎তবে ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।

‎

‎# পীরগাছা ও গাইবান্ধাতেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

‎

‎রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমানের মেয়ে জয়িতা আক্তার জিনির নামে ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইটাকুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার শ্বশুর আলিমুদ্দিন ময়েন মোল্লার ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

‎

‎গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নেও নতুন ডিলার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে নিয়োগের শর্ত, আবেদনকারীদের যোগ্যতা এবং মূল্যায়নের প্রক্রিয়া যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

‎

‎অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও কৃষকদের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। নতুন ট্রেড লাইসেন্সধারীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা নিয়োগনীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

‎

তৃণমূলের ক্ষোভ, বিরোধীদের সমালোচনা

‎রংপুরের কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ ও বদরগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাঁরা আশা করেছিলেন সরকার স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেবে। কিন্তু প্রকাশিত তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ তাঁদের হতাশ করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, নিয়োগে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার বিষয়টি উপেক্ষিত হলে ভবিষ্যতে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

‎

‎বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির কামরুজ্জামান কবির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয়করণের অভিযোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, প্রকাশিত তালিকায় জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের নাম নেই; বরং বিএনপি নেতাদের পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎

‎তিনি এ নিয়োগপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক পক্ষপাতের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে তালিকায় কারা কী যোগ্যতায় স্থান পেয়েছেন, তা যাচাইয়ের জন্য সরকারি নথি ও মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।

‎

‎রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলালও সার ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনা ও আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

‎

‎তালিকা প্রণয়ন নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য

‎

‎সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় উপজেলা পর্যায়ে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিধান রয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে তিনজনের নামের প্যানেল কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পাঠানোর কথা।

‎

‎বদরগঞ্জের সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা দাবি করেন, তালিকা তৈরির বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশনা ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনের নাম দিয়ে তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎

‎রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো তালিকা জেলা পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত নিয়োগের বিষয়টি সরকারের এখতিয়ারভুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‎

‎অন্যদিকে, বাছাই কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি না বুঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন। তবে তালিকায় অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নাম না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎

নীতিমালা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

‎

‎সারা দেশে নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য ৪ হাজার ৯৩১টি প্রস্তাবিত ডিলারশিপের বিপরীতে ৪৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং কৃষকদের কাছে সার সরবরাহের সামর্থ্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎

‎অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তালিকা তৈরিতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তালিকা নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে প্রকৃত সত্য নির্ধারণে আবেদনপত্র, ট্রেড লাইসেন্সের তারিখ, মূল্যায়নের নম্বর, সুপারিশের নথি এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

‎

ভোটের আগে আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ

‎

‎সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এখন আর কেবল কয়েকটি ডিলারশিপের বরাদ্দ নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা, তৃণমূলের মূল্যায়ন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং কৃষকের স্বার্থের প্রশ্ন। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

‎

‎বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে তৃণমূলের ক্ষোভ সামাল দেওয়া এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া। অন্যদিকে, প্রশাসনের দায়িত্ব হবে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নিয়োগের শর্ত ও যোগ্যতার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

‎

‎অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে নির্দোষ কাউকে যেন অন্যায়ভাবে দায়ী করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। তৃণমূলের এই ক্ষোভ নির্বাচনী মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং কৃষক-সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর।

‎


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category