রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে রংপুরে প্রস্তুতি সভা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাংগঠনিকভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষিত সাত দফা দাবি জনগণের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি লংমার্চ সফল করতে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুরে অনুষ্ঠিত এ প্রস্তুতি সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খান, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও রংপুর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রব্বানী, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাশেম বাদল এবং মহানগর প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন, জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক এমআই সুমন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির রংপুর মহানগর সভাপতি শামসুদ্দিন রাজা, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, জেলা সভাপতি এমএ হক আকরাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির রংপুর জেলা সভাপতি রতন মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।
সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খান। সভায় বক্তারা বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচিকে সফল করতে রংপুর মহানগর ও জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বক্তরা বলেন, লংমার্চ কে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে সাংগঠনিকভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও দাবিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, ঢাকা-রংপুর লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। কোনো ধরনের উসকানি, বিশৃঙ্খলা কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সফল করতে হবে। এ জন্য নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় এটিএম আজম খান বলেন, “লংমার্চ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, উসকানি কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।”
প্রস্তুতি সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এসব দাবি সামনে রেখে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা।
সভায় বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তারা।
এ সময় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে রংপুর থেকে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মহানগর ও জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, কর্মসূচির বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
নেতারা বলেন, একটি বৃহৎ কর্মসূচি সফল করতে শুধু জনসমাগম নয়, প্রয়োজন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীল সাংগঠনিক ভূমিকা। তাই লংমার্চে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও জনজীবনে যাতে অযথা দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সভায় বিভিন্ন দলের নেতারা নিজ নিজ সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে নেতারা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কর্মসূচিতে রংপুরের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।