শিরোনাম :
‎দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখেই এইচএসসিতে সফল কলি: স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার হবো ‎রংপুরে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার হকার্স মার্কেটে হকার নেই, ফুটপাতজুড়ে হকারদের রাজত্ব ‎বদরগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি জমির সেই বাড়িতে প্রবেশ করলেন আওয়ামী নেতা এমদাদুল হক  কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকদের মতবিনিময় ‎বদরগঞ্জে সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণের সেই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন খুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রূপসায় বিএনপি’র প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‌ বটিয়াঘাটায় জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুবকদের মাঝে ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ ‎বদরগঞ্জে সরকারি জমিতে ভবনের ছাদ ঢালাই, আওয়ামী নেতা এমদাদুল হক কে হাজিরের নির্দেশ ইউএনওর অন্যায়ের কাছে জামায়াত মাথা নত করবে না: ডা. শফিকুর রহমান ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন

‎বদরগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি জমির সেই বাড়িতে প্রবেশ করলেন আওয়ামী নেতা এমদাদুল হক 

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।

‎রংপুরের বদরগঞ্জে উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি আবাসিক জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক আমিনের বাড়িতে প্রবেশে উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও তা অমান্য করে বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী ও লোকজন নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি। পরে তাঁকে বাড়ির ভেতরে চলাফেরা করতে দেখা যায়। বর্তমানে তিনি ওই বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং বাড়ীর কাজ করতেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের জরুরি নোটিশ জারির মাত্র এক দিনের মাথায় কীভাবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য এবং সর্বশেষ বাড়িতে প্রবেশের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে বদরগঞ্জজুড়ে।

‎

‎এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমদাদুল হক আমিনের বাড়ির প্রধান ফটকে একটি জরুরি নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ওই নোটিশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), বদরগঞ্জের পূর্বানুমতি ছাড়া বিরোধপূর্ণ সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি ও বাড়িতে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

‎

‎তবে প্রশাসনের এমন নির্দেশনার পরদিনই এমদাদুল হক আমিন লোকজন নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করায় নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি নোটিশ জারি ও বাড়ির গেটে তা টাঙিয়ে দেওয়ার পরও কীভাবে একজন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে অবস্থান করছেন? এ ঘটনায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

‎

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি আবাসিক জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক আমিন। প্রায় চার শতাংশ আয়তনের ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকা বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমি লিজ নেওয়ার পর সেখানে স্থায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে জমির লিজের বৈধতা, বরাদ্দের প্রক্রিয়া এবং স্থায়ী ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎

‎এর আগে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত ৩১ অক্টোবর সকালে ওই ভবনের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করার অভিযোগ ওঠে এমদাদুল হক আমিনের বিরুদ্ধে। সরকারি জমিতে নির্মাণকাজ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মামলা ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

‎

‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এমদাদুল হক আমিনের বাবা উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের থাকার জন্য ঘর নির্মাণের কথা বলে তৎকালীন এক কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতিতে সরকারি আবাসিক জমিতে অস্থায়ীভাবে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবার সেখানে বসবাস শুরু করে। বাবার মৃত্যুর পর ওই জমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন এমদাদুল হক। একপর্যায়ে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পুরো জমি নিজের নামে লিজ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযুক্ত এমদাদুল হক আমিন বলেন, আমার গেটে কে বা কাহারা নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে আমি তা জানিনা। নোটিশের কোন সিলছাক্কর  কিছু নাই।  ওখানে কোন তারিখও নাই শুধু ওখানে লিখছে অদ্য হইতে। লিখিতভাবে কোন নোটিশ করেছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাকে কোন নোটিশ করা হয়নি। কাগজপত্র নিয়ে কোন দপ্তরে ডাকা হয়নি। জমির বিষয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড আমার বাড়িতে আসছিলো বাড়িতে এসে তিনি বলেন  কার জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতেছেন তখন আমি বিস্তারিত তাকে বলি তখন তিনি আমাকে অফিসে আসতে বলেন যে কাগজপত্র গুলো নিয়ে একটু অফিসে আসেন। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলো তুমি যে বাড়ি করতেছো তোমাকে কেউ চাঁদা দাবি করতেছে? চাঁদা চাইছে? তখন আমি বলছি স্যার অনেকে তো আসছে দাবি করতেছে। তখন এসিল্যান্ড বলেন কাউকে এক টাকা দেবেন না কাগজপত্রগুলো আমাকে দেন। কোন এসিল্যান্ড  কে দিয়েছেন এই প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত এমদাদুল হক বলেন বর্তমান যে এসিল্যান্ড আছে তাকে দিয়েছি। ভূমি অফিস আপনার কাজে কেন বাধা দেবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন তারা কেন বাধা দিচ্ছে এটা আমার বোধগম্য নয়। ভূমি অফিস কোন মহলের চাপে হয়তো আমার কাজে বাধা দিচ্ছে। আমার সাথে এরকম করতেছে। পৌর ভূমি অফিস কোন কাজে বাধা দিয়েছে নাকি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন পৌর ভূমি অফিসের যে কর্মকর্তা তিনি বলেছেন আমাকে চাপে রাখা হয়েছে, আমি কি করবো? পৌর ভূমি অফিসের যে কর্মকর্তা বর্তমানে আছে আমার স্ত্রীকে এসে বলছে আপনারা নোটিশ দেখেছেন তারপরও এখানে পরিবার কিজন্য রাখছেন? তখন ওইভাবে তিনি আমাদেরকে বের করে দিয়েছেন। ওই জমি সরকার যে জন্য লিজ দিয়েছিলো এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সে কোন মন্তব্য করতে রাজি নই।

‎নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবেশের বিষয়ে পৌর ভূমি কর্মকর্তা বকুল মিয়া বলেন, ভাই আমি জরুরী কাজের রংপুরে এসেছি আদালতে তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। তিনি যদি আইন অমান্য করে পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বাড়িতে প্রবেশ করে তাহলে তিনি লকআপে যাবেন, আমি বিষয়টা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাচ্ছি। ছবিটা আমাকে একটু পাঠান।

‎এদিকে, এর আগে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহাদাত হোসেন সরেজমিনে জমিটি পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর সরকারি ছুটির সুযোগে আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

‎

‎এ ঘটনায় গত ১ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোনাববর হোসেন বদরগঞ্জ পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. বকুল মিয়াকে অভিযুক্ত এমদাদুল হক আমিনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাঁর কার্যালয়ে হাজির করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছামিউল ইসলামকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জমির মালিকানা ও লিজসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

‎

‎এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোনাববর হোসেন বলেন, “গত ১ নভেম্বর তাঁকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। এ জন্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে তাঁকে কাগজপত্রসহ হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করে এ মুহূর্তে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সবকিছু পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

‎

‎বদরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছামিউল ইসলাম বলেন, “আমরা তাঁকে বেশ কয়েকবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি নির্দেশনা অমান্য করে ভবনের ছাদ ঢালাই দিয়েছেন। তাঁর কাছে কিছু কাগজপত্র রয়েছে। আবার আমাদের অফিসের কাগজপত্রেও কিছু অসংগতি রয়েছে। এ বিষয়ে ১ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” নিষেধাজ্ঞাও অমান্য করে বাড়িতে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেছে কিনা আমি তো জানি না বিষয়টা দেখতেছি।

‎

‎প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও বাড়িতে প্রবেশের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারি জমির প্রকৃত মালিকানা, লিজের বৈধতা এবং নির্মিত ভবনের বিষয়ে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category