রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চৌধুরী ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনটির উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করেন। অর্থাভাবে যারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না, তাঁদের জন্য এ আয়োজন হয়ে ওঠে স্বস্তি ও আশার উপলক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বদরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ঢেঁড়েরদাঙ্গা শিশু সদন ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুর এবং মরিয়ম চক্ষু হাসপাতাল, সৈয়দপুরের সার্বিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ মানবিক কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
সকাল থেকেই চিকিৎসাসেবা নিতে ক্যাম্পে ভিড় করেন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ ও বয়স্ক রোগীরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের মাধ্যমে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি তাঁদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও সেবা প্রদান করা হয়। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে অনেক দরিদ্র রোগীর মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।ক্যাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল চোখে ছানি পড়া রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা। যেসব রোগীর চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের নিজস্ব বাসে করে সৈয়দপুরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার শেষে পরদিন একই বাসে তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজকেরা। ফলে দূরবর্তী হাসপাতালে যাতায়াতের ভোগান্তি ও খরচ থেকেও উপকৃত হবেন রোগীরা।
লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমাম বলেন, নীলফামারী ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ইতোমধ্যে সৈয়দপুর, তারাগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে রংপুর অঞ্চলের সব উপজেলায় এ ধরনের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু আঞ্চলিক পর্যায়েই নয়, বিনামূল্যের এ মানবিক সেবা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মো. মাহাবুবুর রহমান লাভলু চৌধুরী বলেন, তাঁদের ফাউন্ডেশন সম্পূর্ণ পারিবারিক ও অরাজনৈতিকভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প আয়োজনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ, বৃক্ষরোপণ এবং দুস্থ ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে এসব সেবামূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক বৃদ্ধা বলেন, অর্থের অভাবে অনেক সময় প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে চোখের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন কষ্ট করতে হয়। এখানে কোনো টাকা খরচ ছাড়াই চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।
সেবাগ্রহীতা বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। অনেক সময় টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারি না। চৌধুরী ফাউন্ডেশন এভাবে আমাদের পাশে দাঁড়ালে অসহায় মানুষগুলো অনেক উপকৃত হবে। তাঁদের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা তাঁদের সবার জন্য দোয়া করি।’ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক ও দরিদ্র মানুষের জন্য চোখের চিকিৎসা এবং ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা প্রশংসনীয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে গ্রামীণ জনপদের আরও অনেক মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে যেন কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে শেষ হয় চৌধুরী ফাউন্ডেশনের দিনব্যাপী এ মানবিক আয়োজন।