শিরোনাম :
দিঘলিয়ায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা আততায়ীর গুলিতে নিহত ছেলেকে জবাই করে হত্যার ৫১ দিনের মাথায় বাবাকে গুলি করে হত্যা বটিয়াঘাটায় নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেছেন মোঃ ফজলে রাব্বী ২৬৩ নং সরালিয়া বিশারীঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবস উদযাপন পীরগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করলেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জুয়েল রানা শিক্ষকের মর্যাদা শিক্ষার অগ্রগতি বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন শোক সংবাদ:বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল খান রংপুরে ‘ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলিতে আহত ২ ভারতীয় নাগরিক রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আলফাডাঙ্গায় এসএসসি’র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

কালুপাড়ায় ১৫ টাকা কেজিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হচ্ছে:‎স্বস্তিতে নিম্নআয়ের মানুষ 

Reporter Name
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‎রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ) 

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের সময়ে সরকারের এ কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সুবিধাভোগীরা। উপজেলার ১৩ নম্বর কালুপাড়া ইউনিয়নের লালদিঘী বাজার এলাকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত দিনে সকাল থেকেই তালিকাভুক্ত কার্ডধারীরা কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করছেন। এ সময় সুবিধাভোগীদের মধ্যে সরকারি মূল্যে চাল পাওয়ায় স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

‎

‎সংশ্লিষ্ট বিতরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ডিলার মো. রায়হান কবিরের মাধ্যমে লালদিঘী বাজার এলাকার তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কার্ডধারী সুবিধাভোগী প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে এককালীন ৩০ কেজি চাল পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অর্থাৎ ৩০ কেজি চালের জন্য একজন সুবিধাভোগীকে দিতে হচ্ছে ৪৫০ টাকা। জানা গেছে, লালদিঘী বাজারের বিতরণ কেন্দ্রটি সপ্তাহে তিন দিন—সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ডধারীরা এসে তাদের বরাদ্দের চাল সংগ্রহ করছেন। চাল নিতে আসা কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মাত্র ৪৫০ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাওয়া তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা। সরকারের এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে দরিদ্র পরিবারগুলো আরও উপকৃত হবে বলেও তারা জানান।

‎

‎এ বিষয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মো. রায়হান কবির বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে না। প্রত্যেক কার্ডধারী যাতে নির্ধারিত পরিমাণ ও সঠিক ওজনে চাল পান, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নির্ধারিত দিন ও সময়ে নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, লালদিঘী বাজারে রায়হান কবিরের মাধ্যমে চাল বিতরণ কার্যক্রম তিনি দেখেছেন। তার দাবি, রায়হান কবির কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন না এবং সুষ্ঠুভাবেই চাল বিতরণ করেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই স্থানীয় বাসিন্দা।

‎

‎১৩ নম্বর কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আনোয়ার বলেন, রায়হান কবির ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কোনো অন্যায় কাজ করেন না এবং অনিয়মের সুযোগও দেন না বলে দাবি করেন আনোয়ার। চাল কম দেওয়ার অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। নতুন কার্ড করে দেওয়ার জন্য রায়হান কবির কারও কাছ থেকে টাকা নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

‎

‎১৩ নম্বর কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক বলেন, “সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। কালুপাড়া ইউনিয়নের প্রকৃত ও তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে এবং সঠিক পরিমাণে চাল পান, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। লালদিঘী বাজারের বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো সুবিধাভোগী যেন হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সরকারি এই কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

‎

‎কালুপাড়া লালদিঘী বাজার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার পয়েন্টের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ জেড এ আশরাফুজ্জামান (বিপ্লব) বলেন, “খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। লালদিঘী বাজারের ডিলার পয়েন্টে সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কার্ডধারী সুবিধাভোগীরা যাতে নির্ধারিত ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল সঠিকভাবে পান, তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাভোগীদের কোনো ধরনের অসুবিধা হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

‎

‎

‎স্থানীয়দের মতে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে কম দামে চাল পাওয়ায় গ্রামীণ নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। তবে কর্মসূচির সুফল নিশ্চিত করতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা, সঠিক ওজন, নির্ধারিত মূল্য এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই সরকারি এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সুবিধাভোগীদের আস্থা আরও বাড়বে।

‎


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category