রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
নিজের সম্মতি ও অনুমতি ছাড়াই রংপুর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে সংগঠনের সব পদ-পদবি এবং আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন রাজু মিয়া। তিনি তারাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) রংপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন রাজু মিয়া। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তার কোনো ধরনের সম্মতি, অনুমতি কিংবা অবগতির বাইরে সম্প্রতি ঘোষিত রংপুর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজু মিয়া বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের আগ থেকেই তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। এরই মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে জানতে পারেন, সম্প্রতি ঘোষিত রংপুর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে তার নাম সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তার দাবি, তিনি ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে কোনো পদ গ্রহণের জন্য আবেদন করেননি এবং এ বিষয়ে সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতার সঙ্গে তার সম্মতিসূচক আলোচনা হয়নি। তার অজ্ঞাতসারে কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ ও বিব্রত হয়েছেন বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে রাজু মিয়া বলেন, “আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি ছাত্রলীগের সকল পদ-পদবি এবং আওয়ামী লীগের সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে পদত্যাগ করলাম। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও কোনো অপপ্রচার চালানো হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে। আমি বা আমার পরিবার কোনোভাবেই এর দায় নেব না।” তিনি আরও বলেন, তার নাম ব্যবহার করে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রচারণা কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রাজু মিয়ার শ্বশুর মুকুল সরকার বলেন, “আমাদের পরিবারের সবাই বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কতিপয় ছাত্রলীগ নেতা ভুল বুঝিয়ে আমার জামাইকে ছাত্রলীগের কমিটিতে যুক্ত করেছিল। সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ছাত্রলীগের সকল পদ-পদবি ও কর্মকাণ্ড থেকে পদত্যাগ করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।” তিনি আরও বলেন, রাজু মিয়া বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। এ জন্য দেশবাসী, প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এদিকে রাজু মিয়ার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজা মিয়া বলেন, রাজু মিয়া ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে কখনোই সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার এবং তার পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজু মিয়ার সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া সাংগঠনিক কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে রংপুরের তারাগঞ্জের আরও এক ছাত্রলীগ নেতার ক্ষেত্রেও অনুমতি ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে নাম রাখার অভিযোগ ওঠে এবং তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে একই ধরনের অভিযোগে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক নেতার পদত্যাগের ঘোষণা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে কী প্রক্রিয়ায় রাজু মিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কমিটি গঠনের সময় তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বক্তব্য জানা যায়নি। রাজু মিয়া সংবাদ সম্মেলনে তার নাম কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রচারণা বা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তার দায়ভার তিনি কিংবা তার পরিবার নেবেন না বলেও স্পষ্ট করেন।