রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
রংপুরের বদরগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ১৭ অক্টোবর রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার ১২ নম্বর কুতুবপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর ডাঙ্গলপাড়া গ্রামের একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। রংপুর জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের দিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই (নিঃ) আবু ছাইয়ুম তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় কুতুবপুর ডাঙ্গলপাড়া গ্রামের একটি বসতবাড়ির শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. ছাইদার রহমানের পরিহিত লুঙ্গির কোচ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নারী পুলিশ সদস্যের সহায়তায় মোছা. সারমিন বেগমের ডান হাতের মুষ্টিতে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় পাঁচ পিস ইয়াবা। এ ছাড়া মো. মেহেরুল মণ্ডলের পরিহিত জিনসের প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিন পিস এবং মো. কামরুজ্জামানের পরিহিত লুঙ্গির বাম কোচ থেকে দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ৩৫ পিস।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ডাঙ্গলপাড়া গ্রামের মো. ছাইদার রহমান (৩৫), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর ইসলামপুর ফরাজিবাড়ির বাসিন্দা মোছা. সারমিন বেগম (২৩), বদরগঞ্জের সাহেবগঞ্জ কচুয়া মণ্ডলপাড়া গ্রামের মো. মেহেরুল মণ্ডল এবং একই উপজেলার মো. কামরুজ্জামান ওরফে কামরু (৪৫)। সারমিন বেগম বর্তমানে বদরগঞ্জের কুতুবপুর ডাঙ্গলপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযান শেষে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জব্দ করা আলামতসহ বদরগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এদিকে, রংপুর জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।