রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং লোহানীপাড়ায় ইউনিয়নের কামারপাড়ায় জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লোহানীপাড়া কামারপাড়া আদিবাসী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। গত ১৬ অক্টোবর কামারপাড়া আদিবাসী যুব সংঘের খেলার মাঠে এই উৎসবমুখর ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তরুণদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে লোহানীপাড়া কামারপাড়া আদিবাসী যুব সংঘ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো সময় জুড়েই দর্শকদের উপস্থিতি ও মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত ছিল খেলার মাঠ।
টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৫ নং লোহানীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মো: রায়হান কবির মিলটনের স্ত্রী ও তার মেয়ে। রায়হান কবির মিল্টনের স্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার চর্চা থাকা অবশ্যই দরকার। কারন খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে ভালো রাখা যায়। “খেলাধুলা শুধু শারীরিক গঠনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার একটি বড় হাতিয়ার। আদিবাসী তরুণদের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে মাঠ সভাপতি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: জাহিদুল ইসলাম। টুর্নামেন্টটির সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব ম্যানুয়েল মুর্মু।
টুর্নামেন্টের আয়োজনকে সফল করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জনাব মো: মাহফুজার রহমান (মিনু), ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর জনাব মিনা টপ্য, পশ্চিমপাড়ার গ্রাম প্রধান জনাব জীবন সরেন, লাছুপাড়ার গ্রাম প্রধান জনাব বাপই মার্ডী, আদিবাসী সমাজসেবক জনাব দ্বিন্তী মিঞ্জী, কামারপাড়ার গ্রাম প্রধান জনাব উকিল মুর্মু, গমিতোপাড়ার গ্রাম প্রধান জনাব চুড়কা মুর্মু, মাঠ সভাপতি ও সমাজসেবক জনাব হোরেন কর্মকার এবং সমাজসেবক জনাব উইলিয়াম কুজুর।
আয়োজক সংগঠন লোহানীপাড়া কামারপাড়া আদিবাসী যুব সংঘের সদস্যরা জানান, গ্রামীণ জনপদে ফুটবলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং আদিবাসী তরুণদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতেই এই আয়োজন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
নির্ধারিত সময়ের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের হাতে আকর্ষণীয় ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।