শিরোনাম :
দিঘলিয়ায় শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব দিঘলিয়ায় মা-মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছনা থানায় জিডি দিঘলিয়ার সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যানের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার রূপসায় জিএম কামরুজ্জামান টুকুর মন্দির পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান মোরেলগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে আগমন উপলক্ষে বদরগঞ্জে প্রস্তুতি সভায় আওয়ামীলীগ নেতার অংশগ্রহণ রূপসায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিঘলিয়ায় মতুয়া মহাসম্মেলনে এমপি আজিজুল বারী হেলাল দিঘলিয়ায় বিশুদ্ধ পানি বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত ‎রংপুরে দুর্গামন্দিরে আরতি দিতে গিয়ে নারীর মৃত্যু, উৎসবের আনন্দ পরিণত হলো শোকে ‎
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে আগমন উপলক্ষে বদরগঞ্জে প্রস্তুতি সভায় আওয়ামীলীগ নেতার অংশগ্রহণ

Reporter Name
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)

আগামী ২০ অক্টোবর ‎রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভায় আওয়ামী লীগের এক নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সভায় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য কৈলাস চন্দ্র রায়কে। তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তুলে প্রশ্ন তোলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুদুজ্জামান সরকার নিপুল। এ নিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সভাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বদরগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই কৈলাস চন্দ্র রায়ের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় নিপুলসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আপত্তি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

‎

‎বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুজ্জামান সরকার নিপুলের অভিযোগ, কৈলাস চন্দ্র রায় লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ডিউক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করেন নিপুল।নিপুল বলেন, বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত একজন জনপ্রতিনিধিকে সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখে তিনি বিষয়টি জানতে চান। কিন্তু এ প্রশ্ন তোলার পর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎

‎নিপুলের ভাষ্য, এ সময় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয়। দলীয় কর্মসূচিতে কারা অংশ নিচ্ছেন এবং তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কী—এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে তাঁকে এভাবে চাপে ফেলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। লোহানীপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতার সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একটি অংশ তৎপর রয়েছে বলেও দাবি করেন নিপুল।’

‎

‎কৈলাস চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পরিচয় ও বিএনপির প্রস্তুতি সভায় তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চাইলে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, তাঁর জানা মতে, কৈলাস চন্দ্র রায় ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ কারণে তাঁকে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচনা করা যায়না।কৈলাস চন্দ্র রায়কে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, এ বিষয়ে এককভাবে কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তাঁকে দলে নেওয়া হবে কি না, তা ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারণ করতে হবে।

‎

‎বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কৈলাস চন্দ্র রায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁকে সভায় আসতে বলা হয়েছিল। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা কি না, তা তাঁর জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। সভায় নিপুলের ভূমিকা প্রসঙ্গে আজিজুল হক অভিযোগ করেন, নিপুল তাঁর দিকে জুতা নিয়ে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন। এ ঘটনার পর নিপুলকে কেন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কৈলাস চন্দ্র রায়ের উপস্থিতির ব্যাখ্যায় আজিজুল হক বলেন, সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁকে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত দলের নেতারা সম্মিলিতভাবে নেবেন বলেও জানান তিনি।

‎

‎এদিকে বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইদুজ্জামান সরকার রিপন সাংগঠনিক সম্পাদক নিপুলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, নিপুল ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন ত্যাগী নেতা। তাঁকে দলীয় রাজনীতি থেকে কোণঠাসা করতে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতা ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রিপনের দাবি, লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিপুলের প্রার্থিতাকে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কৈলাস চন্দ্র রায়কে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করার পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে কৈলাস চন্দ্র রায়কে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করে চেয়ারম্যান প্রার্থী করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

‎

‎প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রস্তুতি সভা ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় অন্তর্ভুক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে, তা বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধির অতীত রাজনৈতিক পরিচয়, তাঁকে সভায় আমন্ত্রণ জানানোর কারণ এবং দলীয় পর্যায়ে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা—এসব বিষয় নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।একদিকে নিপুলের অভিযোগ, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে; অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বিরুদ্ধে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবার কৈলাস চন্দ্র রায়ের আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

‎


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category