শিরোনাম :
‎ফেসবুকে রায়হান কবির মিল্টনকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, সাইবার আইনে মামলার হুঁশিয়ারি মৌলভীবাজারে বিদেশ পাঠানো নামে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ‎যাঁরা থাকেন আড়ালে, তাঁরাই হলেন অনুষ্ঠানের অতিথি–ভ্যানচালক জুতা মেরামতকারী-ঝালমুড়ি বিক্রেতা  লোহানীপাড়ায় মিল্টনের স্ত্রীর নেতৃত্বে ৩০০ মোটরসাইকেলের শোডাউন, ছয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আগে কাজ দেন, তারপর দোকান ভাঙেন’ রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে হাবীব আজম- সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান ‎লোহানীপাড়ায় টিসিবির পণ্য বিতরণে নানা অনিয়ম, দায় চাপাচ্ছেন ডিলার ও কর্মকর্তা ‎ ‎রংপুরে দুর্গাপূজার ডেকোরেশনের মালামাল খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক যুবকের মৃত্যু ‎ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন পৌর মেয়র প্রার্থী বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস আড়ংঘাটায় ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে জিডি
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

দু’বছর আগে ছেলের পরিকল্পনায় বাবা খুন, গ্রেফতার ২

Reporter Name
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

 

দুই বছর আগে ছেলের পরিকল্পনায় বাবা খুন, হালিশহরে গ্রেপ্তার ২

হালিশহর প্রতিনিধি: মোঃ মঈনুদ্দিন

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে দুই বছর আগে সংঘটিত একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জমি ও সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে বাবা মীর মজিবুর রহমান খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন মাসে মীর মজিবুর রহমান চট্টগ্রাম নগরীতে তার মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। ৭ জুন এক নারীর ফোন পেয়ে তিনি নগরীর একটি বাসায় যান। পিবিআইয়ের দাবি, ওই নারীকে ব্যবহার করে মজিবুর রহমানকে সেখানে ডেকে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তার ছেলে বেলাল।

ওই বাসায় আগে থেকেই বেলালের সহযোগী আব্দুল জলিল উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মজিবুর রহমানকে খাওয়ানো হয় বলে তদন্তে জানা যায়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বেলাল ও আব্দুল জলিল তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রথমে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যান। এরপর বেলাল একটি মাইক্রোবাস নিয়ে সেখানে যান এবং মজিবুর রহমানকে নিয়ে হালিশহর এলাকার সিডিএ আউটার রিং রোডের দিকে রওনা হন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হালিশহর থানার আউটার রিং রোডসংলগ্ন এলাকায় নেওয়ার পর বেলাল হোসেন ও আব্দুল জলিল মিলে মজিবুর রহমানের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ রাস্তার পাশের ঝোপে ফেলে তারা চলে যান।

এর দুই দিন পর, ২০২৪ সালের ৯ জুন, হালিশহর থানার আউটার রিং রোড এলাকার একটি ঝোপ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পরনে ছিল সাদা লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি এবং গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় পরবর্তীতে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

এদিকে নিখোঁজ বাবার সন্ধান না পেয়ে তার মেয়ে সালমা খানম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে আদালতে অপহরণের মামলাও করেন। দীর্ঘদিন তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় একপর্যায়ে হালিশহর থানা পুলিশ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। পরে পিবিআই মামলাটির তদন্তে নামে।

দীর্ঘ তদন্তের পর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অজ্ঞাত মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করে। তদন্তে সেটি নিখোঁজ মীর মজিবুর রহমান খানের মরদেহ বলে নিশ্চিত হওয়ার দাবি করে সংস্থাটি।

পিবিআই জানায়, ১৩ জুন ২০২৬ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জুন মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ঘোড়ামারা এলাকা থেকে আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেলালকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম ১৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের এসব তথ্য তুলে ধরেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হত্যাকাণ্ডে আরও একজন নারী সহযোগীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category